উপজেলা প্রতিনিধি :শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার)
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বর্ণাঢ্য বিজয়া শোভাযাত্রা ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাঁচ দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসব। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি আর হাজারো ভক্তের অশ্রুসজল বিদায়ে দেবী দুর্গাকে এক বছরের জন্য বিদায় জানানো হয়।
বিজয়া দশমী উপলক্ষে বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ছিল উৎসবের আমেজ। দশমী পূজা ও দর্পণ বিসর্জন শেষে শুরু হয় ঐতিহ্যবাহী সিঁদুর খেলা। লালপাড় শাড়ি পরে নারীরা দেবী দুর্গাকে সিঁদুরে রাঙিয়ে, মিষ্টিমুখ করিয়ে এবং একে অপরের কপালে ও গালে সিঁদুর পরিয়ে মঙ্গল কামনা করেন। আনন্দের পাশাপাশি দেবী বিদায়ের বেদনায় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ভক্তরা।
বিকেলে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার উদ্যোগে মৌলভীবাজার সড়কের সার্বজনীন দুর্গাবাড়ি থেকে বের করা হয় বর্ণাঢ্য বিজয়া শোভাযাত্রা।
উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ডা. হরিপদ রায়ের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সুদীপ দাস রিঙ্কুর সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী।
বিশেষ অতিথি ছিলেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক সরফরাজ আহমেদ সরফু, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল আলম সিদ্দিকী, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন ঝাড়ু মিয়া এবং শ্রীমঙ্গল কমলগঞ্জ সহকারী পুলিশ সুপার ওয়াদুজাম্মান রাজু এবং ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন।
এ ছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।
শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। সুসজ্জিত ট্রাকে প্রতিমা নিয়ে ভক্তদের অংশগ্রহণে পুরো শহর উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। শোভাযাত্রা দেখতে সড়কের দুই পাশে হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে। অনেকে জায়গা না পেয়ে আশপাশের বহুতল ভবনের ছাদ ও বারান্দায় দাঁড়িয়ে প্রতিমা দর্শন করেন।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ফ্রন্ট শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সুজিত রায় জানান, এবারের বিজয়া শোভাযাত্রায় প্রায় শতাধিক প্রতিমা নিয়ে ভক্তরা অংশগ্রহণ করেন।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, বিজয়া দশমী কেবল দেবী দুর্গার বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা নয়; মানুষের অন্তরের কাম, ক্রোধ, হিংসা ও লালসার মতো অসুরিক প্রবৃত্তি বিসর্জন দিয়ে পারস্পরিক সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ব ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার বার্তাও বহন করে।
দিনভর উৎসব, শোভাযাত্রা ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় শ্রীমঙ্গলের পাঁচ দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসব। ভক্তদের কণ্ঠে ছিল একটিই প্রত্যাশা ‘আসছে বছর আবার হবে।