সাইফুল ইসলাম।।
স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ ও চ্যানেল আই-এর যৌথ উদ্যোগে শুরু হতে যাচ্ছে ১১ তম কৃষি অ্যাওয়ার্ড। বাংলাদেশের কৃষি খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্যই এই আয়োজন।
২০১৪ সালে যাত্রা শুরু করে, কৃষি অ্যাওয়ার্ড দেশের অন্যতম স্বীকৃত একটি প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে, যা তৃণমূল পর্যায়ের কৃষক ও উদ্ভাবক থেকে শুরু করে টেকসই এবং জলবায়ুকে সহনীয় পর্যায়ে রাখার প্রচেষ্টায় অগ্রণী প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোগগুলোকে স্বীকৃতি প্রদান করে আসছে। গত দশ বছরে, ৮৮ জন ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠান কৃষিক্ষেত্রে তাদের অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই পুরস্কার লাভ করেছে।
কৃষি এখনও বাংলাদেশের অর্থনীতি এবং খাদ্য নিরাপত্তার মূল ভিত্তি। তাই ১১তম আসরের মূল লক্ষ্য হলো এই প্লাটফর্মের মাধ্যমে উদ্ভাবন ও নেতৃত্বের এমন অনুকরণীয় গল্পগুলো খুঁজে বের করা যা কৃষি খাতের উন্নয়ন ও মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে কাজ করবে। এ বছরের কৃষি অ্যাওয়ার্ড-এ আজীবন সম্মাননা, বর্ষসেরা কৃষক (নারী ও পুরুষ), বছরের সেরা মেধাবী সংগ্রামী (নারী ও পুরুষ), পরিবর্তনের নায়ক, সেরা কৃষি সাংবাদিকসহ মোট ১৩টি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার প্রদান করা হবে।
স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী নাসের এজাজ বিজয় বলেছেন, ‘কৃষি অ্যাওয়ার্ড এখন ১১ বছর পূর্ণ করেছে। এই পুরস্কার দেখায় যে, একই উদ্দেশ্যে কাজ করলে আমরা গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করতে পারি। আমরা চ্যানেল আই-এর সঙ্গে উন্নয়নের এই যাত্রায় কাজ করতে পেরে গর্বিত এবং দেশের মানুষদের প্রতি কৃতজ্ঞ, যারা এই পুরস্কারকে দেশের জন্য প্রেরণার উৎসে পরিণত করেছে। আমাদের পুরস্কারপ্রাপ্তদের এক একজন বাংলাদেশের জলবায়ু সংকট মোকাবিলা এবং খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার করতে উদ্ভাবন ও নিষ্ঠার যথাযথ উদাহরণ।
চ্যানেল আই-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর বলেছেন, “চ্যানেল আই প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই বাংলার মাটি ও মানুষের কথা বলে আসছে। কৃষির উন্নয়ন ছাড়া উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণ কোনোভাবেই সম্ভব নয়। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের মতো একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের সাথে আমাদের এই ধারাবাহিক পথচলা দেশের কৃষি খাতের প্রতি আমাদের গভীর দায়বদ্ধতারই প্রমাণ। আমরা অত্যন্ত গর্বিত যে, এই অ্যাওয়ার্ড প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আমরা এমন সব আলোকিত মানুষদের সম্মান জানাতে পারছি, যারা নিজেদের মেধা, ঘাম ও পরিশ্রমে দেশের অর্থনীতিকে প্রতিনিয়ত মজবুত করে চলেছেন।”
চ্যানেল আই-এর পরিচালক ও বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ বলেছেন, “আমাদের কৃষকরাই দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি এবং খাদ্য নিরাপত্তার প্রকৃত যোদ্ধা। জলবায়ু পরিবর্তন, আবাদি জমি হ্রাসসহ নানা বৈশ্বিক ও স্থানীয় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে তারা যেভাবে কৃষিতে নিত্যনতুন প্রযুক্তির ব্যবহার ও উদ্ভাবন ঘটাচ্ছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। গত দশ বছর ধরে এই অ্যাওয়ার্ড তৃণমূলের সেই অদম্য কৃষক, খামারি এবং কৃষিউদ্যোক্তাদের সাফল্যের গল্পগুলোই দেশবাসীর সামনে তুলে ধরছে। আমি বিশ্বাস করি, এই স্বীকৃতি নতুন প্রজন্মকে কৃষিপেশায় আসতে এবং ভবিষ্যতের টেকসই ও স্মার্ট কৃষি গড়তে আরও বেশি অনুপ্রাণিত করবে।”
ইতোমধ্যে ১১তম কৃষি অ্যাওয়ার্ডের আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে যা চলবে ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত। জমা হওয়া আবেদনগুলো স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ এবং শিল্পক্ষেত্রে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত একটি বিশেষ জুরি প্যানেল দ্বারা মূল্যায়ন করা হবে। পর্যালোচনা শেষে, এই বছরের শেষের দিকে এক গালা অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে।
স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড, দেশের কৃষি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে একটি দায়িত্বশীল অংশীদার হিসেবে কাজ রে যাচ্ছে যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের সার্বিক উন্নয়নে কার্যকর ইতিবাচক প্রভাব রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।