নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামী দুই দশকের জন্য দেশের পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে একটি সমন্বিত ও কৌশলগত মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ বুধবার ৮ এপ্রিল সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রশ্নোত্তরে পর্বে তিনি এই কথা জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একাদশ দিনের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী পর্যটন, সামাজিক নিরাপত্তা ও নারী শিক্ষার প্রসার নিয়ে সরকারের ভবিষ্যত পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পর্যটন খাতের অগ্রগতির লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের নানাবিধ কর্মপরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে পর্যটন সংশ্লিষ্ট পাঁচটি প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
সেগুলো হল: পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও পর্যটন-বান্ধব নীতি প্রণয়ন; ট্যুর গাইড প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন; রন্ধনশৈলী পর্যটনের প্রসার ঘটানো; কমিউনিটি ট্যুরিজম; এথনিক ও ওয়াটার ট্যুরিজমের বিকাশ ও ইকো-ট্যুরিজমের বিকাশ এবং গ্রাম পর্যটন উন্নয়ন।
মাইক বিভ্রাটের কারণে আধা ঘন্টা বিলম্বে বেলা ১১টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে শুরু হয় সংসদ অধিবেশন। অধিবেশেনর প্রথম ৩০ মিনিট প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব। বুধবার প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর এবং মন্ত্রীদের প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়েছে বলে স্পিকার জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা ও দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ক্রমবর্ধমান চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্বাচনী ইশতেহারে পর্যটন সংশ্লিষ্ট প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ‘জাতীয় পর্যটন মহাপরিকল্পনা’ এর খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে।
খসড়ায় পর্যটন খাত সংশ্লিষ্ট আইন, নীতিমালা ও আচরণবিধি প্রণয়ন; পর্যটন ক্লাস্টার তৈরি; স্থানীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণ; অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও উপকূলীয় এলাকাভিত্তিক পর্যটনের বিকাশ; জীববৈচিত্র্য রক্ষা; কার্বন নিঃসরণ হ্রাস এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার রূপরেখা রয়েছে। সার্বিকভাবে মহাপরিকল্পনায় আগামী দুই দশকের জন্য দেশের পর্যটন শিল্পের উন্নয়নের একটি সমন্বিত উদ্যোগ ও কৌশলগত রূপরেখা রয়েছে।
দেশে বর্তমানে ৩০টির অধিক জেলায় স্বীকৃত ও আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সকল অঞ্চলে পর্যটনের সুবিধা সম্প্রসারণ ও ভারসাম্যপূর্ণ পর্যটন উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রত্যেকটি জেলার পর্যটন উপযোগিতা বিবেচনা করে স্থানীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিভিত্তিক পর্যটন সুবিধা সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন ছাড়াও তারকাচিহ্নিত প্রশ্ন করেন সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সাংসদ সেলিম রেজা; পটুয়াখালী-৪ আসনের এবিএম মোশাররফ হোসেন; কুমিল্লা-৯ আসনে আবুল কালাম; নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য এএম মাহবুব উদ্দিন এবং নওগাঁ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ইকরামুল বারী টিপু।