নিজস্ব প্রতিবেদক: জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সৃষ্ট আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সরকার যতটুকু দাম বাড়িয়েছে তা ‘খুবই নগণ্য’। তহবিলের ওপর চাপ বাড়ায় বাধ্য হয়েই এ সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে বলে জানান তিনি।
আজ (রোববার, ১৯ এপ্রিল) আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বসন্তকালীন বৈঠক শেষে দেশে ফিরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ-সহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে চলমান আলোচনা এবং দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেন তিনি।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘সারা দুনিয়ায় তেলের দাম বেড়েছে। আমেরিকাতে দাম দ্বিগুণ হয়েছে, শ্রীলঙ্কায় বেড়েছে ২৫ শতাংশ। জাতীয় তহবিলের ওপর তীব্র চাপ থাকা সত্ত্বেও আমরা দেশের জনগণের স্বার্থে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দাম না বাড়িয়ে ধরে রেখেছিলাম। কিন্তু বাজেট ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য অর্থনৈতিক কর্মসূচি সচল রাখতে অত্যন্ত নগণ্য হারে এই মূল্য সমন্বয় করতে হয়েছে।’
আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ঋণ ও সহযোগিতার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। একটি নির্বাচিত সরকার হিসেবে জনগণের স্বার্থের পরিপন্থী কোনো শর্ত মানা হবে না উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, ‘বিগত সরকারের সময় আইএমএফ-এর এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। সেখানে অনেক শর্ত আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে। আমরা জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তাই জনগণের ওপর বা ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে এমন কোনো সিদ্ধান্ত আমরা নেব না।’
মূল্যস্ফীতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, তেলের দাম সামগ্রিক অর্থনৈতিক বাস্কেটের একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র। মূল্যস্ফীতি মূলত সরবরাহ ও চাহিদার ওপর নির্ভর করে। সরকার তেলের পর্যাপ্ত মজুত ও সরবরাহ নিশ্চিত করার মাধ্যমে জনগণের ওপর এর প্রভাব সহনীয় পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করছে।
তিনি আরো জানান, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগীরা একমত এবং তারা বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে অত্যন্ত আগ্রহী। বিশেষ করে সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বা সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। শীঘ্রই বিশ্বব্যাংক ও এডিবির প্রতিনিধি বাংলাদেশ সফরে আসবেন বলেও জানান তিনি।