নিজ অর্থায়নে অসহায়দের সহায়তা করছেন বেরোবি শিক্ষার্থী আবীর

মঙ্গলবার, মে ১৯, ২০২৬

 

মাসফিকুল হাসান, বেরোবি প্রতিনিধি;

ব্যস্ততার এই নগরসভ্যতায় যখন মানুষ ক্রমশ নিজের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে, ঠিক তখনই কিছু মানুষ নীরবে মানবতার আলো জ্বালিয়ে রাখেন। তারা প্রচারের আলো চান না, চান শুধু মানুষের মুখে একটু হাসি ফুটুক। উত্তরবঙ্গের বিদ্যাপীঠ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুরে তেমনি এক মানবিক তরুণের নাম আবীর হোসেন। ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ১৫তম ব্যাচের এই শিক্ষার্থী নিজের সামর্থ্য, ইচ্ছাশক্তি ও মানবিক দায়বদ্ধতা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে সাহায্যের আশায় আসা অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়িয়ে তৈরি করেছেন অনন্য দৃষ্টান্ত।

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার সন্তান আবীর হোসেন দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসে ভিক্ষা বা সাহায্যের জন্য আসা দুস্থ ও অসহায় মানুষের সহযোগিতায় কাজ করে যাচ্ছেন। কখনো নিজের টাকায়, কখনো আবার বন্ধু-বান্ধব ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহায়তায় তিনি চেষ্টা করেন মানুষের কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব করতে। তার উদ্যোগে পরিচালিত “হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়,রংপুর” নামের একটি সংগঠন ও ফেসবুক পেজ এখন মানবিক সহায়তার একটি নির্ভরতার জায়গায় পরিণত হয়েছে।

জানা গেছে, সংগঠনটির মাধ্যমে বিভিন্ন সময় সমাজের বিত্তবান ও সহমর্মী মানুষ ডোনেশন করে থাকেন। সেই অর্থ স্বচ্ছতার সঙ্গে অসহায় মানুষদের মাঝে পৌঁছে দেন আবীর ও তার সহযোগীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ে সাহায্যের আশায় আসা বৃদ্ধ, অসুস্থ, পথশিশু কিংবা অভাবগ্রস্ত মানুষদের খাদ্য, চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করেন তারা।

সম্প্রতি এক অসহায় নারীকে নিয়মিত দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন আবীর। প্রতিদিন যেন তিনি না খেয়ে ফিরে না যান, সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখেন তিনি। শুধু তাই নয়, ঈদকে কেন্দ্র করে দরিদ্র পরিবারগুলোর মুখে হাসি ফোটাতেও এগিয়ে আসেন এই শিক্ষার্থী। দুধ, সেমাই, পোলাওয়ের চালসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী কিনে দিয়ে সহযোগিতা করেন অসচ্ছল পরিবারগুলোর মাঝে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী বলছেন, বর্তমান সময়ে এমন মানবিক উদ্যোগ খুব কমই দেখা যায়। যেখানে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহানুভূতির কথা লিখেই দায়িত্ব শেষ করেন, সেখানে আবীর বাস্তবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাফিয়া সুলতানা বলেন, “আবীর ভাইকে প্রায়ই দেখা যায় ক্যাম্পাসে সাহায্যের জন্য আসা মানুষদের সঙ্গে কথা বলতে, তাদের খাবার কিনে দিতে কিংবা সহযোগিতার ব্যবস্থা করতে। বিষয়টি সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক।”

আরেক শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম বলেন, “আমরা অনেক সময় অসহায় মানুষদের পাশ কাটিয়ে চলে যাই। কিন্তু আবীর ভাই তাদের সমস্যাকে নিজের দায়িত্ব মনে করেন। তার এই কাজগুলো আমাদেরও মানবিক হতে শেখায়।”

এ বিষয়ে আবীর হোসেন বলেন, “মানুষের জন্য কিছু করতে পারাটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় শান্তি। ক্যাম্পাসে যখন দেখি কেউ সাহায্যের জন্য এসেছে, তখন মনে হয় অন্তত সামর্থ্য অনুযায়ী কিছু করা উচিত। আমি একা নই, অনেক বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষী আছেন যারা পাশে দাঁড়ান। তাদের সহযোগিতাতেই কাজগুলো করতে পারছি।”

তিনি আরও বলেন, “আমার বিশ্বাস, সমাজ পরিবর্তনের জন্য বড় কিছু নয়—ছোট ছোট মানবিক উদ্যোগই যথেষ্ট। সবাই যদি নিজের জায়গা থেকে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ায়, তাহলে সমাজটা আরও সুন্দর হবে।”

শিক্ষার্থীদের মতে, আবীর হোসেনের মতো তরুণদের মানবিক উদ্যোগ শুধু একজন মানুষকে সহায়তা করছে না, বরং পুরো সমাজে সহমর্মিতা, দায়বদ্ধতা ও মানবিক মূল্যবোধ ছড়িয়ে দিচ্ছে। মানবতার এই আলো ছড়িয়ে পড়ুক আরও বহু মানুষের মাঝে—এমনটাই প্রত্যাশা সবার।