কিছু বিপথগামী উচ্চাভিলাষী সেনাসদস্যের হাতে এক নক্ষত্রের বিদায়

রবিবার, মে ৩১, ২০২৬

 

।। মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা কাজল।। 

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বহুগুণে গুণান্বিত, বহুরূপে প্রতিষ্ঠিত, বহু স্মৃতিতে অম্লান এক পথহারা জাতির পথপ্রদর্শক আলোর দিশারী। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে যখন দেশ ও জাতি দিশেহারা, ক্ষুধা, অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষা নিয়ে জাতি যখন দিকবিদিক ছুটে বেড়াচ্ছে, প্রায় দেউলিয়া ও দিকহারা পথিকের মতো একজন সঠিক শাসক খুঁজছে, তখন আল্লাহর রহমতে জিয়াউর রহমানের আবির্ভাব ঘটে। আল্লাহর কুদরতি গুণে তিনি দেশের হাল ধরেন।

তখন মানুষ ও কুকুর ডাস্টবিনে একসঙ্গে খাবার খেত। খাদ্যের মহাসংকটে দেশ ও জাতি দুর্ভিক্ষে নিমজ্জিত ছিল। সেই সময়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বল্প সময়ের প্রচেষ্টায় দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে এগিয়ে যায় এবং তিনি দেশের আইন-শৃঙ্খলার উন্নয়নে ব্যাপক মনোযোগ দেন।

দেশের অর্থনীতির পরিবর্তন, কলকারখানার উন্নয়ন, নতুন নতুন শিল্পকারখানা স্থাপন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বিশ্বে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশকে পরিচিত করে তোলা ও মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলায় তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য।

আমাদের পাটশিল্প যখন প্রায় বিলুপ্তির পথে, কৃষক ও দিনমজুর খাদ্যসংকটে দিশেহারা, তখন নতুন বিনিয়োগের অংশ হিসেবে গার্মেন্টস শিল্পের বিকাশে উদ্যোগ নেওয়া হয়। তৈরি পোশাক রপ্তানি জনপ্রিয় হয়ে অর্থনীতির মোড় ঘুরিয়ে দেয় এবং বাংলাদেশকে একটি স্বনির্ভর জাতিতে রূপান্তরের পথে এগিয়ে নিয়ে যায়।

তাঁর অন্যতম প্রধান আহ্বান ছিল পরনির্ভরশীলতা কমিয়ে আত্মনির্ভর ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলা। পরবর্তীতে বিদেশিদের ফেলে যাওয়া বিভিন্ন শিল্পকারখানায় সংস্কার এনে সেগুলোকে সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের হাতে তুলে দিয়ে অর্থনীতিকে সচল করেন এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখেন।

তাঁর সময়ের খালকাটা কর্মসূচি জাতির জন্য এক আশীর্বাদ ছিল। অল্প সময়ের মধ্যেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হয়ে ওঠেন গণমানুষের বন্ধু। তিনি দিনের পর দিন মাইলের পর মাইল হেঁটে ৬৮ হাজার গ্রামের মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেন এবং মানুষের আকাঙ্ক্ষা বুঝে সে সময়ের প্রয়োজন অনুযায়ী দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ব্যাপকভাবে মনোনিবেশ করেন।

তাঁর আদর্শে পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়াও দেশ পরিচালনায় মনোযোগী হন। দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে একটি উন্নত জাতিতে রূপান্তরের ক্ষেত্রে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একটি আদর্শিক নাম। তাঁর ব্যবহার, আচার-আচরণ, ভালোবাসা, দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের স্মৃতি এবং নীতির প্রতি বিশ্বের বহু মানুষ শ্রদ্ধাশীল।

সমস্ত জাতি তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ। প্রতি বছর ৩০ মে গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মানের সঙ্গে তাঁকে স্মরণ করা হয়। তাঁর অবদান বর্ণনা করার ভাষা সত্যিই সীমিত।

একজন আল্লাহর ওলি হিসেবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম পৃথিবী যতদিন থাকবে, বাংলাদেশ যতদিন থাকবে, ততদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর রেখে যাওয়া কর্মসূচি, উন্নয়ন পরিকল্পনা ও নির্মিত স্থাপনাগুলো তাঁর উত্তরসূরি, তারুণ্যের অহংকার জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে বহমান থাকবে এবং দেশকে তাঁর স্বপ্নের “স্বনির্ভর বাংলাদেশ” গঠনের পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে—এই প্রত্যাশা আমাদের।

আমরা তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করি এবং আল্লাহ তাআলা যেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে শহীদের মর্যাদা দান করে জান্নাতের উচ্চ মাকাম নসিব করেন।

 

বিশেষ দ্রষ্টব্য: তাঁর সম্পর্কে এটি একটি সংক্ষিপ্ত লেখা। ভুল-ত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ রইল। আরও অনেক কিছু লেখার ছিল। পরবর্তীতে চলবে।

লেখক: মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা কাজল
সদস্য, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন