১৬ জুন সংবাদপত্রের কালো দিবস ও আ’লীগের চরিত্র উন্মোচন?

মঙ্গলবার, জুন ১৬, ২০২৬

 

।। মোহাম্মদ সাখাওয়াৎ হোসেন ইবনে মঈন চৌধুরী।। 

৭৫ এর সমাজের ৪ টি বাদে সকল আইনা ভেঙে দেওয়া বা বন্ধ করার সংবাদ শুনে টাঙ্গাইল সন্তোষে গৃহবন্দী থাকা মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী বলেছেন। দখলদারী আর দুঃশাসন অল্প সময়ের মধ্যে পতন হবে আল্লাহ পাক ইচ্ছে করলে?যখন মজলুম জননেতার ইত্তেফাক এর মালিকনা৫৪ এ ক্ষমতায় এসে পরিবর্তন করে দেয় তারপরও বেশী শেখ মজিবুর রহমান ক্ষমতায় টিকতে পারেননি!তেমনি স্বাধীনতার পর মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর “সাপ্তাহিক হক কথা” য় শিরোনাম হয়।এই সংবিধান দিল্লী থেকে আসা? পত্রিকা বাজারে আসা’র ৩০ ঘন্টার মধ্যে ডিক্লেয়ারেশন বাতিল করে!এরপর পর্যায়ক্রমে দৈনিক গণকণ্ঠ, হলিডে,গনশক্তি,লাল পতাকা, মুখপত্র,বাংলার মুখ সহ অনেক পত্রিকা বন্ধ করে।আটক হয় কবি আল মাহমুদ, হলিডের সম্পাদক এ,জেড,এম,এনায়েতুল্লাহ খান,সৈয়দ ইরফানুল বারী সহ অসংখ্য সাংবাদিক আর সম্পাদক বন্ধী হন! এটা হাইজ্যাক কৃত আ’লীগ লুট আর ক্ষমতা পরিবারে বিশ্বাস করে না এমন একটা মিডিয়াতে আছে। কেন এই পরিবারটা গনতন্ত্র আর গণমাধ্যম বিশ্বাস করে না এমন প্রশ্ন ওঠতেই পারে? আরেকটু পিছনে গেলো আরো পরিস্কার হবে!৭ মার্চ ৭১ গোটা জাতি রেসকোর্স ময়দানের দিকে তাকিয়ে আছে “এই বুঝি স্বাধীনতার ঘোষণা আসবে? কিন্তু না স্বাধীনতার ঘোষণা আসলো না। চলে গেলেন হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল গল্পে বসলেন পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর সদস্যদের সাথে? এ ভাবেই চলতে থাকে ৯ মার্চ৭১ পর্যন্ত। স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা রুপকার স্হপতি মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী বললেন কোন আলোচনা নয় স্বাধীনতা? এ ভাবেই অজ্ঞাত কারণে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল গল্পের আসর জমজমাট! ২৫ মার্চ৭১ শেখ মজিবুর রহমান পরিবার পরিজনদের পাকিস্তানী বাহিনীর নিরাপত্তায় রেখে পাকিস্তান চলে গেলেন। ঐ রাতেই বাংলার জমিনে হায়নার দল হিংস্র চেহারায় নেমে পড়ে। রাত আনুমানিক ২ টার সময় চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে ইথারে ভেষে আসে ” অস্হায়ী প্রেসিডেন্ট হিসাবে আমি মেজর জিয়া স্বাধীনতার ঘোষণা দিলাম। জাতি এই ঘোষণা শুনে ঐক্যবদ্ধ হতে থাকে। এদিকে সীমান্ত এলাকায় মেজর জিয়া উর রহমান অঘোষিত নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়ে। দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধের পরে আসে বিজয়। কিন্তু বিজয়ের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে স্বাধীনতার ঘোষক অস্হায়ী প্রেসিডেন্ট মেজর জিয়া কিংবা মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম,এ,জি ওসমানীকে উপস্থিত হতে দেওয়া হলো না? ওখানে উপ-প্রধান এ,কে খন্দকার উপস্থিত থাকা সত্বেও তাকেও আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করতে দেওয়া হলো না। আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করলো অরোরা। অপরদিকে ইন্ডিয়াতে গৃহবন্দী মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীকেও মুক্ত করে সদ্য স্বাধীন দেশে আসতে দেওয়া হয়নি। ১৬ ডিসেম্বর ৭১ আত্মসমর্পণ দলিল স্বাক্ষরের দেশের কলকারখানা গনলুট আর গনহত্যা হত্যা শুরু! আর ইসলামের কথা যারা বলে তাদের ইন্ডিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে গনহত্যার ফাঁদের মত এখানেও ফাঁদ পাতলো। মেজর এম,এ,জলিল গনহত্যা গনলুটের প্রতিবাদ করায় সেক্টর কমান্ডার স্বীকৃতি দেওয়া হয় না। এমন কি স্বাধীনতার ঘোষক অস্হায়ী প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এই স্বীকৃতি আজ অবাধি দেওয়া হয় না? ১০ জানুয়ারী ৭২ লন্ডন ও দিল্লী হয়ে স্বাধীন বাংলাদেশে আসেন শেখ মজিবুর রহমান। কিন্তু ২২ জানুয়ারী ৭২ পর্যন্ত স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা রুপকার স্হপতি মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী ইন্ডিয়াতে গৃহবন্দী থাকেন। ২২ জানুয়ারী ৭২ মুক্তি পেয়েই দেশে ফিরলেন মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী। কয়দিন টাঙ্গাইল সন্তোষ থেকে ঢাকায় আসলেন মওলানা ভাসানী। তিনি বললেন এই দেশের ছাত্র যুবক যেদিন বুঝবে দিল্লীই তাদের একমাত্র শক্র। সে দিনই দেশ নিরাপদ হবে। তার কয়েক দিন পর আবার মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী বলেন একটা নাগরিককেও নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্তে অভিযোগ প্রদান হলে শাস্তি! বাধ্য হলো জহির রায়হানকে দিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন। ৭ দিন পর ঐ তদন্ত কমিটি বাতিল তার ৭ দিন পর জহির রায়হান গুম? আর তখন দেশে একটা প্রচার ছিলো এই কান্ড প্রতিবেশী সাম্প্রদায়িকের কান্ড? তার তারই পরিবারের সদস্যদের জ্বাল নোট ব্যাবসা,এসব নানা অভিযোগ জনসম্মুখে যাতে না আসে এই জন্যে গণমাধ্যম বন্ধ করা হয় বলে তখন কানাঘুষা ছিলো। ১৯৭৫ এর ১৫ আগষ্ট আর ৭ নভেম্বর সিপাহী জনতার বিপ্লব জাতির প্রয়োজনে জিয়া উর রহমানকে রাষ্ট্রের দায়িত্ব দিলেই শেখ মজিবুর রহমান ক্ষমতা পকেটস্থ করার আইন গুলো আবার ডাস্টবিনে ফেলে গনতন্ত্র আর গণমাধ্যম মুক্ত হয়। এই দিবসটা শুধুই গনতন্ত্রের বা সংবাদপত্রের কালো দিবস নয়? এটা আধিপত্য আগ্রাসনের কালো দিবস। আজকের এই দিনে সেই দেশপ্রেমিক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান আর দেশনেত্রী বেগম খালেদাজিয়ার যোগ্য উত্তরসূরী জনাব তারেক রহমান গত ১৭ বছরে বন্ধ গণমাধ্যম গুলো স্বল্প সময়ের মধ্যে খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিবেন। সকল সাংবাদিক সংগঠন গুলোর সম্মনয়ে সংবাদপত্র কমিশন গঠন আর আহত নিহত সাংবাদিক পরিবারে, মাসিক অনুদানে! পাশাপাশি সাংবাদিকদের নামে দায়ের কৃত মামলার নিসপ্তি করা। আবার সাংবাদিকদের ঘারে নাপিতরা ব্রাহ্মণ সেজে বসেছে! এদের চিহ্নিত করে পেশাদার সাংবাদিকদের মধ্যে নেতৃত্বের পরিবেশ সৃষ্টি করা। তাহলেই সংবাদ পত্র আর গনতন্ত্রের জন্যে কালো দিবস আসবে না?

লেখক: চেয়ারম্যান বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক এ্যাসোসিয়েশন(বিআরজেএ) ও সদস্য ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন(ডিইউজে), সম্পাদক,দৈনিক শিকল