চট্টগ্রামে শিপব্রেকিং ইয়ার্ড দুর্ঘটনার নিন্দা ও নিহতদের পরিবারকে আজীবন আয়ের সমান ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি

সোমবার, আগস্ট ১৭, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশন-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সভা ১৫.০৮.২০২৬ ইং তারিখ শনিবার ফেডারেশন কার্যালয়ে সহ-সভাপতি আ. স. ম. জাকারিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট শ্রমিক নেতা আমিরুল হক আমিন দেশের বর্তমান শ্রমিক আন্দোলনের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে একটি প্রতিবেদন পেশ করেন।

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নেতা এস. এম. জাকির হোসেন, রফিকুল ইসলাম বাবুল, এম দেলোয়ার হোসেন, আনোয়ার আলী, ডা. আবুল কাশেম, আসমা আক্তার, এস. এম. ফারুকুল ইসলাম। চট্টগ্রামে স্কপের কর্মসূচী থাকার কারণে সহ-সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম চৌধুরী ও সহ-সভাপতি ইঞ্জি: মোক্তার আলী অসুস্থতার জন্য অনলাইনে যুক্ত ছিলেন।

সভা শুরুতে গত ১৪ই আগস্ট চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড শিপ-ব্রেকিং ইয়ার্ডে সংগঠিত ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও দুর্ঘটনায় যে ১১ জন শ্রমিক মর্মান্তিকভাবে নিহত হয়েছেন, তাদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। সভায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলা হয়, এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার দায় মালিক পক্ষসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনোভাবেই এড়াতে পারে না। সভা থেকে অবিলম্বে দুর্ঘটনার জন্য দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে তাদের আজীবনের আয়ের সমান ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি জানানো হয়। একই সাথে, আহত শ্রমিকদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত এবং প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণের দাবি তোলা হয়।

অন্য এক প্রস্তাবে, সভায় সরকারের রাষ্ট্রায়ত্ত ৪৪টি শিল্প প্রতিষ্ঠানকে বেসরকারি হাতে ছেড়ে দেওয়ার গণবিরোধী সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, জাতীয় স্বার্থ পরিপন্থী এমন আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। অবিলম্বে এই জাতীয় সম্পদ বেসরকারি করণের প্রক্রিয়া থেকে সরকারকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়।

সভায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, বর্তমানে দেশে চাল, ডালসহ নিত্য প্রয়োজনীয় সব ধরণের পণ্যের মূল্য লাগামহীনভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে শ্রমিক, কর্মচারীসহ সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের জীবনযাপন অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। বিদ্যমান মুদ্রাস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রেক্ষিতে অবিলম্বে শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, নবম পে কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন এবং পুলিশ ও সেনাবাহিনীর ন্যায় দেশের শ্রমিক কর্মচারীসহ সকল শ্রমজীবী মানুষের জন্য রেশন ব্যবস্থা চালু করার জোর দাবি জানানো হয়।

সভায় সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির শূন্য পদ সমূহ পূরণ করে কমিটি পুনর্গঠন করা হয়।