জাতির সংবাদ ডটকম।।
অপরিকল্পিত উন্নয়নের ফলে ঢাকা শহরে পার্ক, খেলার মাঠ, সবুজ এলাকা, জলাধার ও জলাভূমি কমে গিয়ে তাপমাত্রা, দূষণ, যানজট ও নগর স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। ঢাকা শহরের ৫-৭% মানুষ ব্যক্তিগত গাড়িতে যাতায়াত করে বাকি ৯০% এর অধিক মানুষ দৈনন্দিন যাতায়াতে হাঁটা, সাইকেল ও গণপরিবহনের উপর নির্ভরশীল। তাই ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করে নিরাপদ ফুটপাত, রাস্তা পারাপার ও হাঁটাবান্ধব অবকাঠামো এবং নিরাপদে সাইকেলে যাতায়াত ও মানসম্মত গণপরিবহন নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি পার্ক, খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান, জলাধার ও সবুজ এলাকা সংরক্ষণ, কাঁচাবাজারসমূহ মানসম্মত করা এবং এ স্থানগুলো সকলের জন্য প্রবেশগম্য করে তোলা আবশ্যক।
আজ ২৪ আগস্ট ২০২৬, সোমবার, সকাল ১০.০০ টায় ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট কর্তৃক সংস্থার কৈবর্ত সভাকক্ষে আয়োজিত “বাসযোগ্য নগরী গঠনে আমাদের করণীয়” শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এ কথা বলেন।
ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট এর সহকারি প্রকল্প কর্মকর্তা মো: মিঠুন এর সঞ্চালনায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সংস্থার পরিচালক গাউস পিয়ারী। আয়োজনে বক্তব্য রাখেন সমাজকর্মী এবং তেঁতুলতলা মাঠ রক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক সৈয়দা রত্না, বাপা’র হুমায়ুন কবির সুমন, ক্যাব এর অর্গানাইজিং সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ, ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের প্রজেক্ট ম্যানেজার নাঈমা আকতার, শিশুদের মুক্ত বায়ুসেবন সংস্থার সদস্য মোঃ সেলিম, এ্যাকশন ফর চেঞ্জ ফাউন্ডেশনের মেরিনা আক্তার, ডিডিপি’র সভাপতি জাকির হোসেন, ব্রেভ এর নির্বাহী পরিচালক জাকিয়া জাহান, ধানমন্ডি কচিকন্ঠ হাই স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা এইচএম নুরুল ইসলাম, বেঙ্গলী মিডিয়াম হাই স্কুলের সহকারি প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন, রায়েরবাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক সবিতা রাণী পাল, বারসিকের রুমা আক্তার, ডিওয়াইডিএফ এর হেড অব এনভায়রনমেন্ট মো মুন্না হোসেন, গ্রীন ভয়েস এর আহসান হক, ডাব্লিউডিডিএফ এর এ্যাসিস্টেন্ট এডমিন অফিসার রওশন আরা চৌধুরী, ভিডিসি’র এস এম শফিউল ইসলাম, ছায়াতল বাংলাদেশের মিতু খাতুন, ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবীইং বাংলাদেশের পলিসি অফিসার তালুকদার রিফাত পাশাসহ আরো অনেকে। পাশাপাশি স্থানীয় জ্ঞান, সংস্কৃতি, অর্থনীতি এবং মানুষের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিয়ে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণের লক্ষ্যে এই আয়োজনে ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবীইং বাংলাদেশ এবং ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট এর যৌথ উদ্যোগে প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।
সভায় উপস্থিত অতিথিবৃন্দ কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে হেঁটে ও সাইকেলে যাতায়াত, নিরাপদে হেঁটে বিদ্যালয়ে যাতায়াত, মাঠ-পার্ক ও এলাকাভিত্তিক গণপরিসর উন্নয়ন, জলাধার রক্ষা, দূষণ হ্রাস, কাঁচাবাজারসমূহ মানসম্মত করে তোলার লক্ষ্যে সুপারিশ তুলে ধরেন।
আয়োজনে বক্তারা ফুটপাতের মান উন্নয়ন, প্রশস্তকরণ এবং দখলমুক্ত করা; সাইকেলের জন্য নির্দিষ্ট লেন তৈরি ও রুট নেটওয়ার্ক নিশ্চিতকরণ; ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়ন; শহরের খাস জমি দখলমুক্ত করে পুকুর খনন; শিক্ষা প্রতিষ্ঠান-হাসপাতালের আশে পাশে হর্ন বাজানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধতরণ; পরিবেশ দূষণের উৎসসমূহ চিহ্নিত করে আশু উদ্যোগ গ্রহণ; দখল-দূষণকারীদের শাস্তির আওতায় আনা; মাঠ-পার্কসমূহ ক্লাবের আওতাধীন না রেখে সরকারের আওতায় রেখে প্রবেশগম্যতা ও অন্তর্ভুক্তিতা নিশ্চিত করণ; মাঠ-পার্কে খেলাধূলা ও প্রবেশের জন্য কোন অর্থ আদায় না করা; নগরের কাঁচাবাজারসমূহ মানসম্মত করে তোলার লক্ষ্যে বাজারের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা রক্ষার্থে দক্ষ জনবল নিয়োগ; পরিকল্পিত ড্রেনেজ, কঠোর ও সক্রিয় মনিটরিং ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ; বাজার ব্যবস্থাপনার আইন সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা; ভোক্তা ও দোকানী উভয়ের জন্য যেন প্রবেশগম্যতা, অন্তর্ভুক্তিতা ও অধিকার নিশ্চিত হয় সে অনুযায়ী পরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ ও সুবিধাদি প্রদানের সুপারিশ তুলে ধরে।
আয়োজনের দ্বিতীয় ভাগে বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে পরিকল্পনা করা হয়। আয়োজকবৃন্দ দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে সম্মিলিতভাবে মানববন্ধন, সোশ্যাল মিডিয়া ক্যাম্পেইন, গাড়িমুক্ত সড়ক আয়োজন, স্কুলভিত্তিক ক্যাম্পেইন আয়োজনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
আয়োজনে আরো উপস্থিত ছিলেন ধানমন্ডি কচিকন্ঠ হাই স্কুল, বেঙ্গলী মিডিয়াম হাই স্কুল, শিশুদের মুক্ত বায়ুসেবন সংস্থা, ছায়াতল বাংলাদেশ, ডিডিপি, ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবীইং, ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের প্রতিনিধিবৃন্দ।