নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা চাই জুলাই সনদের যে প্রস্তাব সেই প্রস্তাব পুরাপুরি বাস্তবায়ন হোক। এর আলোকে বিরোধীদলের যতটুকু পাওনা আমরা অতটুকু চাই, বেশি চাই না। ওই প্রস্তাবেই আছে বিরোধীদল থেকে একজন ডেপুটি স্পিকার। আমরা খণ্ডিতভাবে এটা চাচ্ছি না। আমরা চাই প্যাকেজ। পুরাটাই সেখানে গ্রহণ হোক, বাস্তবায়ন হোক।
মঙ্গলবার (১১ মার্চ) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে এক বিফ্রিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, প্রথম শপথ হয়েছে সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে। দ্বিতীয় শপথটি হয়েছে সংসদ সদস্য। আমরা দুই জায়গায় শপথ নিয়েছি। দুই জায়গায় আমরা স্বাক্ষর করেছি। কিন্তু দুঃখের বিষয় এখন পর্যন্ত সরকারি দল প্রথম শপথ তারা নেননি। আমরা তাদের প্রতি আহ্বান জানাবো, আসুন জুলাইকে সম্মান করুন। জুলাইকে সম্মান করলেই ২৪ থাকবে। বাংলাদেশে যারা ভোট প্রয়োগ করেছেন তাদের ৬৯ ভাগ মানুষের পক্ষে রাখা হয়েছে। এটাকে অগ্রাহ্য করার কোনো সুযোগ নেই। আমরা এর পক্ষে ভূমিকা রেখে যাবো।
তিনি আরও বলেন, আমরা চাইবো, যে চারটি বিষয়ে দেওয়া হয়েছিল। তার সবগুলো গ্রহণ করা হোক, বাস্তবায়ন করা হোক। আমাদের পক্ষ থেকে বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে। বাকি অধিবেশন শুরু হলে আরও যে সমস্ত বিষয় প্রসঙ্গক্রমে আসবে এ বিষয়গুলো নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। আমরা এটা স্থির করেছি, অবশ্যই অপ্রাসঙ্গিক কোনো ক্ষমতা রাখবো না। বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা নয়। সহযোগিতা করতে হলে সেটা দেশ এবং মানুষের জন্য আর বিরোধিতাও করতে হলে দেশ এবং মানুষের অধিকার এ লড়াই আমরা সংসদে করবো। প্রয়োজনে এই লড়াই রাজপথে হবে। এটা গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। আমরা এই সমস্ত বিষয় নিয়ে হুটহাট করে আদালতে যাওয়াটা আমরা সহজে দেখবো না। একান্ত বাধ্য না হলে, আমরা যদি একান্ত বাধ্য হই তাহলে হয়তোবা আদালতে আসব।
শফিকুর রহমান বলেন, যে সব ব্যাপারে সংসদের যিনি অভিভাবক, যিনি সভাপতিত্ব করবেন স্পিকার, তিনি ইনসাফ করবেন। বিরোধী দলকে যথেষ্ট সুযোগ দেবেন। তাহলে গণতন্ত্রের সৌন্দর্য শুধু ফুটে উঠবে। যে গণতন্ত্র এখনো বাংলাদেশ পায়নি। আমরা প্রত্যাশা করতে চাই এই ত্রয়োদশ সংসদের মাধ্যমে সেটা যেন বাংলাদেশ পায়।
তিনি বলেন, আমরা যাতে একটি দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে ১১ দলের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা আমরা দায়িত্ব পালন করতে পারি। আপনারা দোয়া করবেন, সহযোগিতা করবেন। আমরা দেশবাসীকে আরেকবার কৃতজ্ঞতা জানাই। তাদের রায়ের যেটুকুই প্রতিফলন হয়েছে, তারা আমাদের বক্তব্যকে ধারণ করে, সমর্থন করে, আমাদের যতটুকুই নির্বাচিত করেছেন, ভোট দিয়েছেন আমরা সাবার কাছে কৃতজ্ঞ।
তিনি আরও বলেন, আমরা বলেছিলাম ইলেকশনের সময়, আমরা নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করার সুযোগ পেলে বিদেশে আমাদের কোনো প্রবাসী ভাইবোন ইন্তেকাল পরে তার পরিবার এবং তিনি যদি ওসিয়ত করে যান, তার দাফনটা বাংলাদেশে হবে। তাহলে তাদের লাশ সরকারি খরচে শ্রদ্ধা এবং সম্মানের সঙ্গে বহন করে নিয়ে আসা হবে। ইতোমধ্যে সরকারের প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ঘোষণা দিয়েছে। এটা তারা বাস্তবায়ন করবে। আমরা তাদের অভিনন্দন এবং সাধুবাদ জানাই।