শ্রীমঙ্গলে স্টাফ কোয়ার্টার থেকে একটি কালনাগিনী সাপ উদ্ধার করা হয়েছে

মঙ্গলবার, এপ্রিল ৭, ২০২৬

মৌলভীবাজার  প্রতিনিধি:

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্টাফ কোয়ার্টারের তৃতীয় তলা থেকে বিরল প্রজাতির একটি কালনাগিনী সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। পরে সাপটিকে বন বিভাগের মাধ্যমে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে অবমুক্ত করা হয়।

সোমবার রাত প্রায় ৮টার দিকে শ্রীমঙ্গল সরকারি হাসপাতালের স্টাফ কোয়ার্টারে শ্রাবণ পালের বাসায় তার পরিবারের সদস্যরা হঠাৎ একটি সাপ দেখতে পান। সাপটির উপস্থিতিতে আতঙ্কিত হয়ে তারা দ্রুত ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে যান। পরে বিষয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সিনথিয়া তাসনিম বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সীতেশ রঞ্জন দেবকে মুঠোফোনে জানান।
খবর পেয়ে শ্রীমঙ্গল বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক সজল দেব পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেবকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা ঘরের ভেন্টিলেটরের মধ্যে একটি কালনাগিনী সাপ দেখতে পান। প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় ভেন্টিলেটর ভেঙ্গে সাপটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে উদ্ধারকৃত সাপটি শ্রীমঙ্গলস্থ বন প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হলে বন বিভাগ রাতেই সেটিকে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে অবমুক্ত করে।
শ্রীমঙ্গলস্থ বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা নাজমুল হক জানান, সাপটি অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার হয়, বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন থেকে উদ্ধার করে রাত আটটার দিকে তাদের কাছে দেওয়া হয়। ২ /৩ ঘন্টা তাদের কাছে রেখে রাতেই লাউয়াছড়া বনের জানকিছড়া এটিকে অবমুক্ত করেন।
বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সীতেশ রঞ্জন দেব জানান, এই প্রজাতির সাপ বর্তমানে খুব কম দেখা যায়। এটি মূলত আমাদের অঞ্চলের বনাঞ্চলে বসবাসকারী একটি সাপ এবং একে ঘিরে অনেক পৌরাণিক কাহিনী প্রচলিত রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কালনাগিনী মূলত উড়ন্ত সাপ বা গ্লাইডিং সাপ হিসেবে পরিচিত। এর বৈজ্ঞানিক নাম Chrysopelea ornata (অর্নেট ফ্লাইং স্নেক)। ডানা না থাকলেও এই সাপ শরীর চ্যাপ্টা করে গাছ থেকে গাছে লাফ দিয়ে বাতাসে কিছু দূর ভেসে যেতে পারে। তাই অনেকেই এটিকে “উড়ন্ত সাপ” বলে থাকেন।
এই সাপ সাধারণত বনাঞ্চলের গাছে বসবাস করে এবং ছোট টিকটিকি, ব্যাঙ, ছোট পাখি ও কীটপতঙ্গ খেয়ে বেঁচে থাকে। আকারে তুলনামূলক সরু ও লম্বা এই সাপের শরীরে লাল, কালচে ও হলুদাভ রং এর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায় । বিশেষজ্ঞরা জানান, কালনাগিনী সাধারণত মানুষের জন্য খুব বেশি বিপজ্জনক নয় এবং মানুষকে এড়িয়ে চলতেই বেশি পছন্দ করে। তবে, বন উজাড় ও আবাসস্থল সংকুচিত হওয়ায় এ ধরনের সাপ এখন আগের তুলনায় কম দেখা যায়। তাই কোথাও এমন সাপ দেখা গেলে আতঙ্কিত না হয়ে বন বিভাগ বা বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানান সিতেশ রঞ্জন দেব।