উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সেজে প্রতারণা, চাকরিচ্যুত সেনাসদস্য গ্রেপ্তার

সোমবার, মে ২৫, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারের বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার পরিচয় ব্যবহার করে চাকরি দেয়ার প্রলোভনে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দু’জনকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। তারা হলেন— মো. তারেক সরকার (৪০) ও তার সহযোগী পলাশ কবির (৪২)।

সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র‍্যাব-১০-এর একটি দল পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। র‍্যাব জানায়, মূলহোতা তারেক সরকার গত প্রায় ছয় বছর ধরে এই প্রতারণা চালিয়ে আসছিলেন। তিনি ভুয়া নামে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতেন।

সোমবার (২৫ মে) দুপুরে কেরানীগঞ্জের র‍্যাব-১০ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অধিনায়ক (অ্যাডিশনাল ডিআইজি) মোহাম্মদ কামরুজ্জামান।

র‍্যাব জানায়, অভিযুক্ত মো. তারেক সরকার একজন চাকরিচ্যুত সেনাসদস্য। ২০০৬ সালে শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজের অভিযোগে তিনি সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত হন। পরবর্তীতে সেই তথ্য গোপন করে তিনি কারা অধিদপ্তরে চাকরি নেন এবং সেখানে ২০২০ সাল পর্যন্ত প্রায় ১৪ বছর কর্মরত ছিলেন। কারা বিভাগে চাকরি করার সুবাদে বিভিন্ন অপরাধীর সঙ্গে তার সখ্যতা গড়ে ওঠে এবং তিনি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। পরবর্তীতে একটি বিভাগীয় মামলার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি কারা অধিদপ্তর থেকেও চাকরিচ্যুত হন।

দীর্ঘদিন সরকারি দপ্তরে চাকরি করার কারণে সরকারি কর্মকর্তাদের পদমর্যাদা, দাপ্তরিক ভাষা এবং বিভিন্ন বাহিনীর কার্যক্রম সম্পর্কে তার সম্যক ধারণা গড়ে ওঠে। চাকরি হারানোর পর এই অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে তিনি পুরোদমে প্রতারণা শুরু করেন।

অ্যাডিশনাল ডিআইজি মোহাম্মদ কামরুজ্জামান জানান, তারেক সরকার বিভিন্ন উৎস থেকে ভুয়া ও ‘ভিআইপি’ মোবাইল সিম সংগ্রহ করতেন। এসব সিম ব্যবহার করে তিনি সরকারি ও সামরিক বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নাম ও ছবি ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট খুলতেন। এরপর ওই অ্যাকাউন্টগুলো থেকে অন্য সিনিয়র কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভুয়া পরিচয়ে সখ্যতা গড়ে তুলতেন এবং বিভিন্ন লোকের চাকরির নিয়োগের ব্যাপারে প্রভাব বিস্তার ও সুপারিশ করতেন। অন্যদিকে, সাধারণ মানুষকে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিশাল অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিতেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারেক স্বীকার করেছেন যে, গত ছয় বছর ধরে তিনি এই চক্র চালাচ্ছেন এবং প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় এক থেকে দেড় কোটি টাকা অবৈধভাবে উপার্জন করেছেন।

র‍্যাব-১০ অধিনায়ক বলেন, প্রতারণার শিকার ব্যক্তিদের অভিযোগের ভিত্তিতে র‍্যাবের একটি দল অনুসন্ধান শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত রোববার (২৪ মে) নরসিংদী সদরের সংগীতা মোড় থেকে তারেক সরকারকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের পর তার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও আলামত জব্দ করা হয়। জব্দ করা আলামতের মধ্যে একটি বাঁধাই করা ছবি পাওয়া গেছে, যেখানে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে তারেকের ছবি ফটোশপের মাধ্যমে নিখুঁতভাবে এডিট করে বসানো হয়েছিল। এই ছবি দেখিয়েই তিনি সাধারণ মানুষের মনে বিশ্বাস স্থাপন করাতেন এবং প্রভাব খাটাতেন।

তারেক সরকারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত রাতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সহায়তায় রাজধানীর সায়েদাবাদ এলাকা থেকে তার সহযোগী পলাশ কবিরকে আলামতসহ গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।