তামাকবিরোধী জোটের পক্ষ থেকে ঢাবি উপাচার্যকে দুটি চিঠি হস্তান্তর

সোমবার, আগস্ট ২৪, ২০২৬

জাতির সংবাদ ডটকম।।

বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের প্রতিনিধি হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাইয়াজ আনাম স্বনন ও তারানা জাহিদ সন্ধি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের  উপাচার্য মহোদয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে জোটের পক্ষ থেকে দুটি চিঠি হস্তান্তর করেন।

প্রথম চিঠিতে বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তামাক কোম্পানির বিভিন্ন ধরনের প্রচারণা, ব্র্যান্ড প্রমোশন, চাকরি ও ক্যারিয়ারভিত্তিক কার্যক্রম এবং Corporate Social Responsibility (CSR)-এর আড়ালে তামাক কোম্পানির সম্পৃক্ততা বন্ধে বিদ্যমান আইন বাস্তবায়নের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

দ্বিতীয় চিঠিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পৃথক ‘Smoking Zone’ স্থাপনের প্রস্তাবের বিষয়ে উদ্বেগ জানানো হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ক্যাম্পাসকে তামাকমুক্ত রাখাই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ও দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

সাক্ষাৎকালে চিঠির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের প্রাসঙ্গিক ধারাসমূহ এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত নির্দেশনাগুলোর কপিও উপাচার্য মহোদয়ের কাছে রেফারেন্স হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। আলোচনায় স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয় যে, প্রচলিত আইন অনুযায়ী তামাক কোম্পানির নামে বা অর্থায়নে পরিচালিত CSR কার্যক্রম এবং বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পৃথক ‘Smoking Zone’ স্থাপন—উভয় ক্ষেত্রেই আইনগত নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

উপাচার্য মহোদয় বিষয়গুলো মনোযোগসহকারে শোনেন এবং সংশ্লিষ্ট আইন ও নির্দেশনা অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, যেহেতু উল্লিখিত কার্যক্রমগুলো আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ, সেহেতু আইন অনুসরণ করেই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় শুধু জ্ঞানচর্চার স্থান নয়; এটি একটি প্রজন্মের চিন্তা, আচরণ ও ভবিষ্যৎ গঠনের ক্ষেত্র। তাই তরুণদের লক্ষ্য করে তামাক কোম্পানির যেকোনো ধরনের প্রভাব ও প্রচারণা প্রতিরোধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, নীতিনির্ধারক ও নাগরিক সমাজের সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি।