ষ্টাফ রিপোর্টারঃ ব্যাটসম্যানদের দাপট আর বোলারদের নিষ্প্রভ পারফরম্যান্সে বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে ২৮তম জাতীয় ক্রিকেট লিগের চার দিনের ম্যাচে চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ বিভাগের লড়াই নিষ্প্রাণ ড্রয়ে শেষ হয়েছে। প্রথম ইনিংসে ময়মনসিংহের ৪৬৫ রানের জবাবে চট্টগ্রাম ৫৯৯ রান সংগ্রহ করে ১৩৪ রানের লিড নেয়। জবাবে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ৩০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ৬১ রান তোলার পর ম্যাচের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
ময়মনসিংহের ওপেনার মাহফিজুল ইসলাম রবিন প্রথম ইনিংসে ২১৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন।
শেষ দিনের খেলা শুরুতে আগের দিনের ৬ উইকেটে ৪২৪ রান নিয়ে ব্যাট করতে নামে চট্টগ্রাম। শাহ পরানের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে দলটি শেষ পর্যন্ত ৫৯৯ রানে অলআউট হয়। আগের দিন ২৪ রানে অপরাজিত থাকা শাহ পরান শেষ দিনে ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন। ১৬৬ বল মোকাবিলা করে ১১টি চার ও ১২টি ছক্কায় ১৬৩ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। হাসান মুরাদ করেন ২২ রান। ময়মনসিংহের হয়ে রাকিবুল ৪টি, ইয়াসিন আরাফাত ৩টি এবং শুভাগত হোম ২টি উইকেট নেন।
১৩৪ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে ময়মনসিংহ। প্রথম ইনিংসের ডাবল সেঞ্চুরিয়ান মাহফিজুল ইসলাম রবিন কোনো রান না করেই ফিরে যান। দলীয় ২৮ রানের মধ্যে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে দলটি। ফলে ড্রয়ের সম্ভাবনাময় ম্যাচেও হারের শঙ্কা দেখা দেয়।
তবে আব্দুল মজিদ ও রিজান হোসেনের দৃঢ়তায় শেষ পর্যন্ত ম্যাচ রক্ষা করে ময়মনসিংহ। আব্দুল মজিদ ১৯ এবং রিজান ১৫ রানে অপরাজিত থাকেন। চট্টগ্রামের হয়ে সানজিত মজুমদার ২টি এবং ইরফান ও আহমেদ শরীফ একটি করে উইকেট নেন।
ম্যাচ শেষে সেরা খেলোয়াড় মাহফিজুল ইসলাম রবিনের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন। এ সময় দুই দলের অধিনায়ক ও ম্যানেজার উপস্থিত ছিলেন।
এই ড্রয়ের পর পয়েন্ট তালিকায় চট্টগ্রাম চতুর্থ এবং ময়মনসিংহ পঞ্চম স্থানে রয়েছে। দুই দলের সংগ্রহই ৪ পয়েন্ট। ৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে খুলনা। ৫ পয়েন্ট করে নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে ঢাকা এবং তৃতীয় স্থানে সিলেট।
বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে আগামী ৩১ অক্টোবর থেকে শুরু হবে জাতীয় ক্রিকেট লিগের পরবর্তী ম্যাচ। এতে মুখোমুখি হবে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগ। ম্যাচটি শুরু হবে সকাল ৯টায়।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ময়মনসিংহ বিভাগ
প্রথম ইনিংস: ৪৬৫/৭ (ঘোষিত)। মাহফিজুল ইসলাম রবিন ২১৭, শুভাগত হোম ৭১, মুনীম শাহরিয়ার ৫৬। চট্টগ্রামের হাসান মুরাদ ৩/১৫৪, জয় ৩/৫৮।
দ্বিতীয় ইনিংস: ৬১/৫ (৩০ ওভার)। আব্দুল মজিদ ১৯*, রিজান হোসেন ১৫। চট্টগ্রামের সানজিত মজুমদার ২/২০।
চট্টগ্রাম বিভাগ
প্রথম ইনিংস: ৫৯৯। শাহ পরান ১৬৩*, দিপু ৯৫, জয় ৭৬, তাসামুল ৬৩, সাব্বির ৫৪, ইরফান ৫৩, সাদিকুর ৪২। ময়মনসিংহের রাকিবুল ৪/১৮৮, ইয়াসিন আরাফাত ৩/৬৬, শুভাগত হোম ২/১৪৬।
ফল: চার দিনের ম্যাচ ড্র।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: মাহফিজুল ইসলাম রবিন (ময়মনসিংহ বিভাগ)।