আরবান হেলথ কেয়ার স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অধীনে বাস্তবায়ন, সরকারি ও ভাড়াকৃত ভবনের সকল কর্মীর চাকরির নিশ্চয়তার দাবি

বৃহস্পতিবার, জুলাই ২৩, ২০২৬

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:

আরবান হেলথ কেয়ার কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অধীনে বাস্তবায়ন এবং সরকারি ও ভাড়াকৃত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কর্মরত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর চাকরির নিশ্চয়তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন প্রকল্পটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

সম্প্রতি স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবের কাছে দেওয়া এক আবেদনে তারা জানান, দীর্ঘ প্রায় ২৮ বছর ধরে সরকারি ও ভাড়াকৃত স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে নগর এলাকার দরিদ্র, নিম্ন আয়ের ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছেন তারা। একই প্রকল্পের আওতায় উভয় ধরনের স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কর্মীরা সমান দায়িত্ব পালন করলেও বর্তমানে সরকারি ভবনে কর্মরতদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি গুরুত্ব পেলেও ভাড়াকৃত স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কর্মীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

আবেদনে বলা হয়, দীর্ঘদিন এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (ADB)-এর অর্থায়নে এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতায় বিভিন্ন এনজিওর মাধ্যমে পরিচালিত এই প্রকল্পে আয়ভিত্তিক (৫০:৫০%) ব্যবস্থাপনার কারণে বিভিন্ন সময়ে রোগীদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ, অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং সেবার বাণিজ্যিকীকরণ নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ।

কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সরকারের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, আরবান হেলথ কেয়ারের সরকারি ভবনগুলো স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অধীনে নেওয়ার উদ্যোগ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। তবে একই প্রকল্পের আওতায় দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত ভাড়াকৃত স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অভিজ্ঞ জনবলকে বাদ দিলে তা বৈষম্য সৃষ্টি করবে এবং রাষ্ট্র দক্ষ ও প্রশিক্ষিত মানবসম্পদ হারাবে।

তাদের দাবি, সরকারি ও ভাড়াকৃত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কর্মরত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও চাকরির ধারাবাহিকতা বিবেচনায় নিয়ে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অধীনে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। প্রয়োজনে ভাড়াকৃত স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কর্মীদের সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পদায়নের মাধ্যমে তাদের অভিজ্ঞতাকে দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় কাজে লাগানো যেতে পারে।

এছাড়া তারা আরবান হেলথ কেয়ার কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরিচালনা, সকল কর্মীর চাকরির শতভাগ নিশ্চয়তা, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার যথাযথ মূল্যায়ন, বৈষম্যহীন নীতিমালা প্রণয়ন এবং ভবিষ্যতে ৫০:৫০ শতাংশ আয় বা টার্গেটভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনা পুনর্বহাল না করার দাবি জানান।

আবেদনে আরও বলা হয়, সরকারের চলমান স্বাস্থ্যখাত সংস্কার কার্যক্রমে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ জনবলকে কাজে লাগানো হলে নগর স্বাস্থ্যসেবা আরও কার্যকর, টেকসই ও জনবান্ধব হবে। তাই জনস্বার্থ, প্রশাসনিক ন্যায়বিচার এবং স্বাস্থ্যসেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে দ্রুত একটি সুস্পষ্ট সরকারি নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে সরকারি ও ভাড়াকৃত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কর্মরত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।