নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর কলাবাগানে মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় এক ব্যক্তি ও তার দুই স্বজনের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কয়েকজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করে কলাবাগান থানায় এজাহার দায়ের করা হয়েছে।
রোববার (৩০ আগস্ট) মোঃ রবিন হোসেন নামে এক ব্যক্তি কলাবাগান থানায় এজাহার দায়ের করেন। এজাহারে মোঃ সাগরসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ আগস্ট রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে কলাবাগান ১ম লেনের ৮ নম্বর বাসার সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
এজাহারকারী রবিন হোসেন অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত সাগর ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় নিষিদ্ধ মাদক ইয়াবা ক্রয়-বিক্রয় ও সেবনের সঙ্গে জড়িত। তিনি একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে এ বিষয়ে প্রতিবাদ করায় এবং অভিযুক্তদের এলাকায় মাদক ব্যবসা না করার জন্য বলায় তারা তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়। এরপর বিভিন্ন সময়ে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার রাতে রবিন হোসেন তার ভাগ্নে মোঃ তানভীর হোসেনকে নিয়ে বাসার সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন। এ সময় পূর্ব শত্রুতার জেরে সাগরের নেতৃত্বে অভিযুক্তরা লাঠি, রডসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে তাদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়, হামলার সময় রবিন হোসেনকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারা হয়। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তার ভাগ্নে তানভীর হোসেনকেও মারধর করা হয়। পরে তাদের চিৎকার শুনে রবিনের ছোট ভাই করিম ঘটনাস্থলে এগিয়ে এলে তাকেও লাঠি ও লোহার রড দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। স্থানীয়দের সহায়তায় আহত তিনজনকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়।
এ ঘটনায় মোঃ সাগর, মোঃ ফাহিম রেজা, মোঃ শাওন, মোঃ জিদান, মোঃ তামজীদ, মোঃ ফারদিন ও মোঃ রাকিবসহ অজ্ঞাতনামা ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
তবে এজাহারে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার বিষয়ে কলাবাগান থানার পুলিশের বক্তব্যও তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয়নি।
এজাহারকারী রবিন হোসেন ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।