বিশ্বকাপ সমালোচকদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ইনফান্তিনোর, বললেন ‘ঘৃণা ছড়ানো হচ্ছে’

সোমবার, জুলাই ২৭, ২০২৬

ক্রীড়া ডেস্ক: ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে সমালোচনাকারীদের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। অভিযোগ, কিছু সমালোচক ‘মিথ্যা তথ্য ও ঘৃণামূলক প্রচারণা’ ছড়াচ্ছেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, এবারের বিশ্বকাপ ছিল আনন্দ, ঐক্য, নিরাপত্তা ও একতার উদযাপন।

সোমবার প্রকাশিত এক দীর্ঘ খোলা চিঠিতে ইনফান্তিনো সমালোচকদের উদ্দেশ্যে বলেন, টিকিটের মূল্য থেকে শুরু করে ভিসা-সংক্রান্ত নানা বিতর্কে আলোচিত এই বিশ্বকাপ নিয়ে সমালোচনা করার আগে তাদের উচিত একটু থেমে আত্মসমালোচনা করা, ধ্যান করা কিংবা প্রার্থনা করা।

নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট এবং ফিফার আনুষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্মে শেয়ার করা এক পোস্টে ইনফান্তিনো লিখেছেন, “দুঃখিত যে আপনারা ঘৃণা ও সমালোচনায় এতটাই আচ্ছন্ন ছিলেন যে এই সবকিছুই দেখতে পাননি।”

তিনি আরও লেখেন, “যারা কলম আর কাগজের আড়ালে কিংবা কম্পিউটারের পর্দার আড়ালে বসে ঘৃণা ও মিথ্যা গুজব ছড়ান, তাদের বলতে চাই- আপনারা যখন সেখানে বসে ছিলেন, তখন আমরা ফিফায় সামনের সারিতে থেকে কঠোর পরিশ্রম করে বিশ্বের সেরা আসরের আয়োজন করেছি।”

“আমরা কোনো সহিংসতা দেখিনি, কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত ছিল। ছিল শুধু আনন্দ আর সুখ।”

কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত এবারের বিশ্বকাপ শুরুর আগে আকাশছোঁয়া টিকিটের দাম, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, যুদ্ধের আশঙ্কা এবং তিনটি আয়োজক দেশে তীব্র গরম নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে ইরানের অংশগ্রহণ, হাইতির অভ্যন্তরীণ সংকট এবং ডিআর কঙ্গোর ইবোলা প্রাদুর্ভাবের কারণে ভিসা ও ভ্রমণ-নিষেধাজ্ঞা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ওঠে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির সবচেয়ে আলোচিত শিকারের অন্যতম ছিলেন সোমালিয়ার রেফারি ওমর আরতান। তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।

তবে ইনফান্তিনো বিশ্বকাপ পরিচালনায় ফিফার ভূমিকার পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন, “আপনারা যখন ঘৃণা ছড়াচ্ছিলেন, তখন আমরা যুদ্ধরত দুই দেশকে একত্রিত করার জন্য নিরলসভাবে কাজ করেছি। ইরান কোনো ধরনের সমস্যা বা সংঘাত ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছে।”

তিনি বলেন, “ফুটবল শান্তির বার্তা বহন করে বলেই ইরান দলকে ভিসা দেওয়া হয়েছে। ফুটবল রাজনীতি নয় শান্তির বিষয়। যেসব দেশ গুরুতর স্বাস্থ্য সংকট বা অন্য চ্যালেঞ্জের মুখে ছিল, তাদেরও ভিসা দেওয়া হয়েছে। আপনারা কয়েকজন ভিসা না পাওয়া ব্যক্তির কথা বলেছেন, অথচ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভিসা পাওয়া লাখো মানুষের কথা উপেক্ষা করেছেন।”

তবে ইনফান্তিনোর বক্তব্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ ভিন্ন অবস্থান নিয়েছেন ইরানের কোচ আমির ঘালেনোয়ি। তিনি দাবি করেন, বিশ্বকাপে তার দলই ছিল সবচেয়ে বেশি নিপীড়নের শিকার হয়েছে। দলের তারকা স্ট্রাইকার মেহদি তারেমিও টুর্নামেন্টে তাদের সঙ্গে হওয়া আচরণকে বিপর্যয় বলে অভিহিত করেন।

বিশ্বকাপে রেফারিং নিয়ে ওঠা সমালোচনারও জবাব দেন ইনফান্তিনো। যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানের ওপর আরোপিত এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে ফিফা সভাপতিকে অনুরোধ করেছিলেন বলে প্রকাশ হওযয়র পর এ বিতর্ক শুরু হয়। এর ফলে বালোগান শেষ ষোলোয় বেলজিয়ামের বিপক্ষে খেলার সবুজ সঙ্কেত পান।

ইউরোপীয় ফুটলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা বালোগান-সংক্রান্ত ঘটনাকে “নজিরবিহীন, দুর্বোধ্য ও অযৌক্তিক” বলে উল্লখ করে জানায়, এটি “লাল রেখা অতিক্রম করেছে”।

সমালোচকদের উদ্দেশে ইনফান্তিনো বলেন, “সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কয়েকটি সিদ্ধান্তে আপনাদের অসন্তোষ স্বাভাবিক। তবে দয়া করে প্রকাশ্য নথিপত্র দেখুন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত বিশ্বের অনেক গুরুত্বপূর্ণ লিগেই নিয়মিত ঘটে।”

তিনি আরও বলেন, “আসলে বিতর্কিত রেফারিং সিদ্ধান্ত কিংবা অস্বাভাবিক শাস্তিমূলক রায়- যেমন ভুলবশত লাল বা হলুদ কার্ড দেখানো, অথবা কিছু পরিস্থিতিতে পরে খেলোয়াড়কে নিষিদ্ধ না করার সিদ্ধান্ত, বিশ্বের অনেক বড় লিগেই নিয়মিত ঘটনা এবং সেগুলো ব্যাপকভাবে গ্রহণযোগ্য। মজার বিষয় হলো যেসব দেশ নিজেরাই এসব পদ্ধতি অনুসরণ করে, তারাই আবার এগুলোর সমালোচনা করছে।”