বিকুল চক্রবর্তী: মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারের রাজনগরে নিখোঁজের ১৯ দিন পর নিজ বাড়ির আঙিনার প্রায় ১০ ফুট গভীর মাটির নিচ থেকে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। হত্যার পর মরদেহটি বালুভর্তি বস্তা দিয়ে চাপা দিয়ে তার ওপর সিসি ঢালাই করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী আলমগীরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সোমবার মৌলভীবাজার পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলামের উপস্থিতিতে এবং রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বিপুল সিকদারের নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে মাটি খুঁড়ে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

রাজনগর থানার এসআই প্রদ্যুৎ রায় জানান, গত ১৭ জুন রাজনগর উপজেলার মুন্সীবাজার ইউনিয়নের করিমপুর চা-বাগান এলাকায় আলমগীরের স্ত্রী জায়েদা বেগম (৩৮) নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় গত ৩ জুলাই আলমগীর রাজনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে দাবি করেন, তার স্ত্রী কাউকে কিছু না জানিয়ে সৌদি আরব চলে গেছেন।
বিষয়টি তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ আলমগীরের কাছে জায়েদা বেগমের কোনো পাসপোর্ট আছে কি না জানতে চাইলে তিনি একটি পুরোনো পাসপোর্ট দেখিয়ে বলেন, নতুন পাসপোর্ট করে তিনি বিদেশে চলে গেছেন। ওই পাসপোর্টের সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তে জানা যায়, জায়েদা বেগম নতুন কোনো পাসপোর্ট করেননি, এমনকি তিনি ইমিগ্রেশনও অতিক্রম করেননি। ফলে সন্দেহের তীর আলমগীরের দিকেই যায়। পরে তাকে বারবার জিজ্ঞাসাবাদ করলে একপর্যায়ে তিনি পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে হত্যা করার কথা স্বীকার করেন।
মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম জানান, নিখোঁজ গৃহবধূর বিষয়ে তদন্ত করতে গিয়ে তার স্বামীর প্রতি সন্দেহ হলে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে তিনি স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন এবং নিজের বাড়ির আঙিনায় মরদেহ গোপনে দাফন করে রাখার স্থানও দেখিয়ে দেন। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মাটি খুঁড়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বিপুল সিকদার জানান, পারিবারিক কলহের জেরে ওই গৃহবধূকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। গৃহবধূর স্বামীর দেওয়া তথ্যমতে মাটির নিচ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় নিহত গৃহবধূর পিতা আব্দুল হান্নান বাদী হয়ে রাজনগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
নিহতের পিতা আব্দুল হান্নান জানান, তার মেয়ের ৬ বছরের একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। এরপরও আলমগীর অন্য এক নারীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। এ বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। তার মেয়ে ফোন করে বিষয়টি পরিবারকে জানিয়েছিলেন। এই ঘটনার জের ধরেই আলমগীর হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।