বিকুল চক্রবর্তী: মৌলভীবাজার প্রতিনিধি।।
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে পানি নিষ্কাশনের ড্রেন নির্মাণ নিয়ে বিরোধের জেরে সাবানা বেগমকে হত্যার মামলায় চার আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার দুপুরে মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন নাসির মিয়া, বিলাল মিয়া, গিয়াস মিয়া ও দুলাল মিয়া। তাঁদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানাও করা হয়েছে।
এ ছাড়া এ মামলায় মহিবুর রহমান অমৃতকে সাত বছরের কারাদণ্ড ও ২৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং জয়নাল মিয়াকে এক বছরের কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত।
রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আব্দুল মতিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরকে বলেন, দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় চার আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “রাষ্ট্রপক্ষ এ রায়ে সন্তুষ্ট। আমরা মনে করি, এ রায়ের মধ্য দিয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ ধরনের রায় বিচারব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।”
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নাসির মিয়া ও গিয়াস মিয়া নিহত সাবানার চাচাতো ভাই এবং দুলাল মিয়া ও
বিলাল মিয়া নিহত সাবানার সৎ ভাই।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৬ সালে শ্রীমঙ্গল উপজেলার ২ নম্বর ভুনবীর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের লইয়ারকুল গ্রামে পানি নিষ্কাশনের ড্রেন নির্মাণকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
ওই বিরোধের একপর্যায়ে সাবানা বেগমকে উপর্যুপরি আঘাত করা হয়। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবার আদালতে মামলা করে।
মামলাটির দায়রা নম্বর ৪৪/২০১৭ এবং সিআর নম্বর ৯৬/১৬। শুরুতে এ মামলায় আসামি ছিলেন ১৪ জন। বিচার চলাকালে সুরুক মিয়া, রাজা মিয়া ও ফারুক মিয়া নামের তিন আসামির মৃত্যু হলে তাঁদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
মামলায় মোট ২৫ জন সাক্ষী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষ ১৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে।
মামলার রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে নিহতের আপন ভাই হেলাল মিয়া জানান , নিহত সাবানার মা ও মামলার বাদী মায়া বেগমকে গুরুতর জখম করার দায়ে মহিবুর রহমান অমৃতকে দণ্ডবিধির ৩২৬ ধারায় সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
এ ছাড়া সেলিনা বেগমকে আঘাত করার দায়ে জয়নাল মিয়াকে দণ্ডবিধির ৩২৩ ধারায় এক বছরের কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
অন্যদিকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় হুকুমদাতা হিসেবে অভিযুক্ত আবুল বাশারসহ আলী ইসলাম, হাসি বেগম, জাভেদ ও নাজমীন বেগমকে খালাস দিয়েছেন আদালত।