‘সব দিক থেকেই অপদস্থ হয়েছে ভারত’

সোমবার, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬

স্পোর্টস ডেস্ক: দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হারের পর ভারতীয় দলের কৌশল ও ব্যাটিং অর্ডার নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন ১৯৮৩ বিশ্বকাপজয়ী সাবেক ক্রিকেটার কৃষ্ণামাচারি শ্রীকান্ত। তাঁর মতে, ভুল সিদ্ধান্ত ও দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যাটিংয়ের কারণে সব দিক থেকেই অপদস্থ হতে হয়েছে ভারতকে।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটে নিজেদের প্রথম ম্যাচে শুরুটা আশা জাগানিয়া ছিল ভারতের। আহমেদাবাদে রোববার টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা দক্ষিণ আফ্রিকার তিন উইকেট তুলে নেয় তারা স্রেফ ২০ রানে। কিন্তু সেই চাপ পর ধরে রাখতে পারেনি স্বাগতিকরা।

ডেভিড মিলার ও ডেওয়াল্ড ব্রেভিসের চমৎকার জুটিতে ঘুরে দাঁড়িয়ে শেষ পর্যন্ত ১৮৭ রানের পুঁজি গড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। ঘরের মাঠে প্রায় ৯১ হাজার দর্শকের সামনে সেই রান তাড়া করতে নেমে মুখ থুবড়ে পড়ে ভারতের ব্যাটিং। স্রেফ ১১১ রানে গুটিয়ে যায় তারা।

ব্যাটসম্যানদের দায়িত্বজ্ঞানহীন শটকে এর জন্য দায়ী করছেন শ্রীকান্ত। ১৯৮৩ বিশ্বকাপ জয়ী দলের সদস্য নিজের ইউটিউব চ্যানেলে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন ইশান কিষান, আভিশেক শার্মাদের ওপর।

“আগের বলেই মিড-অনে ধরা পড়তে যাচ্ছিল ইশান কিষান, তবুও পরের বলে সে স্লগ করতে গেল। পরের ডেলিভারিতেই স্লগ করার কি দরকার ছিল? রিঙ্কু সিংকে যেখানেই নামানো হচ্ছে, সে এক অঙ্কেই আউট হচ্ছে। আইসিসি আসরের চেয়ে দ্বিপাক্ষিক সিরিজে খেলা সহজ। ব্যাটাররা এখন থেকে খেলার ধরন নিয়ে দ্বিধায় পড়বে। আভিশেক শার্মা তো এই ম্যাচেই স্ট্রাইকার থেকে নন-স্ট্রাইকার হয়ে গেছেন।”

ব্যাটিং অর্ডারের দিকেও আঙুল তুলেছেন শ্রীকান্ত। হাস্যকর সব সিদ্ধান্তের জন্য টিম ম্যানেজমেন্টকে শূলে চড়িয়েছেন ৪৩ টেস্ট ও ১৪৬ ওয়ানডে খেলা ব্যাটসম্যান।

“সুরিয়াকুমার ইয়াদাভ বড় ভুল করেছে। তার তিনে নামা উচিত ছিল। সে নিজেই বলেছিল, ওপেনার ছাড়া বাকি সব পজিশনই ফ্লেক্সিবল। ডানহাতি-বাঁহাতি কম্বিনেশনের আলাপই বাজে ব্যাপার। এই কারণে হার্দিক পান্ডিয়াকে সাত নম্বরে নামতে হয়েছে। দিনশেষে ভালো ক্রিকেট খেলা এবং মানসিকতাই আসল।”

“ভারত আজ সব দিক থেকেই অপদস্থ হয়েছে। সাধারণত আমরা প্রতিপক্ষের সঙ্গে এমনটা করি, আজ তার উল্টো হয়েছে। চাপের মুহূর্তে পাঁচ নম্বরে ভালো করেছে হার্দিক পান্ডিয়া। তাকে পাঁচে পাঠানো উচিত ছিল। কিন্তু তাকে সাতে নামানো হলো, যা অযৌক্তিক। সাত নম্বরে হার্দিক পান্ডিয়া, হাস্যকর সিদ্ধান্ত।”