নেশাগ্রস্ত অটোচালকের বেপরোয়া চালনায় শ্রীমঙ্গলে এক রাতে দুই যানবাহনে ধাক্কা, আতঙ্কিত যাত্রীরা

মঙ্গলবার, জুলাই ২৮, ২০২৬

 

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:

শ্রীমঙ্গলে আবারও বেপরোয়া টমটম (অটোরিকশা) চালানোর অভিযোগ সামনে এসেছে। এবার এক নেশাগ্রস্ত বলে অভিযোগ ওঠা টমটমচালকের বেপরোয়া চালনায় একই রাতে দুটি যাত্রীবাহী যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে কক্সবাজারগামী একটি বাসের কাচ ভেঙে যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। স্থানীয়দের দাবি, এ ধরনের অনিয়ন্ত্রিত টমটম চলাচল নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

ঘটনাটি শুক্রবার (গতকাল) রাতে শ্রীমঙ্গল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একটি টমটম প্রথমে একটি এসএমএস পরিবহনের গাড়িকে ধাক্কা দেয়। পরে সেটি কক্সবাজারগামী প্যারাডাইস পরিবহনের একটি বাসের ডান পাশের ডাবল ডেকারের নিচের গ্লাসে সজোরে আঘাত করে। এতে গ্লাস ভেঙে কাচের টুকরা বাসের ভেতরে থাকা এক যাত্রীর গায়ে লাগে। মুহূর্তেই বাসজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে টমটমটি জব্দ করে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশের জিম্মায় নেওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, টমটমচালক নেশাগ্রস্ত ছিলেন এবং বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাচ্ছিলেন।

প্যারাডাইস পরিবহনের বাসচালক বলেন, “শ্রীমঙ্গল কাউন্টার থেকে যাত্রী নিয়ে মাত্র বাস ছেড়েছি। র‍্যাব অফিসের সামনে আসতেই একটি টমটম দ্রুতগতিতে এসে বাসের ডান পাশে ধাক্কা দেয়। এতে ডাবল ডেকারের নিচের গ্লাস ভেঙে যায়। গ্লাস ভেঙে যাওয়ায় এসি চালানো সম্ভব হয়নি। যাত্রী নিয়ে আমাদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে।”

প্যারাডাইস পরিবহনের সিলেট বিভাগীয় জেনারেল ম্যানেজার মো. সোহাগ জানান, “এই ঘটনায় আমরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। নির্ধারিত সময়ে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারিনি। শ্রীমঙ্গল শহরে ছোট ছোট টমটমের কারণে বড় বাস চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে। কোটি টাকার বাস নিয়েও আমাদের টমটমের পেছনে ধীরগতিতে চলতে হয়। বিষয়টি প্রশাসনের গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।”

এসএমএস পরিবহনের ম্যানেজার রাজন আহমেদ বলেন, “একই টমটম আমাদের গাড়িকেও ধাক্কা দিয়েছে। চালক সম্ভবত নেশাগ্রস্ত ছিল। আমরা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, যাতে এ ধরনের বেপরোয়া চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়।”

শ্রীমঙ্গল শহরের বাসিন্দা আহমেদ জুবায়ের বলেন, “আশপাশের বিভিন্ন এলাকার টমটম এখন শ্রীমঙ্গলে এসে চলাচল করছে। ফলে শহরে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েই চলেছে।”

সাংবাদিক সঞ্জয় কুমার দেব বলেন, “এভাবে চলতে থাকলে শ্রীমঙ্গল শহরের পরিবেশ ও সড়কব্যবস্থা ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। অনেক মালিকের ১৫ থেকে ২০টি, এমনকি তারও বেশি টমটম রয়েছে। তারা অপ্রাপ্তবয়স্ক ও অদক্ষ চালকদের দিয়ে এসব গাড়ি চালাচ্ছেন। কোথাও কোথাও প্রশিক্ষণহীন চালকরাও স্টিয়ারিং ধরছেন। ফলে দুর্ঘটনা এখন নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হচ্ছে।”

শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, টমটমটি পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, শ্রীমঙ্গল একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটননগরী। অথচ শহরে অবাধে লাইসেন্স, ফিটনেস ও দক্ষতা যাচাই ছাড়াই অসংখ্য টমটম চলাচল করছে। অনেক চালকের বিরুদ্ধে মাদকাসক্ত অবস্থায় গাড়ি চালানোর অভিযোগও রয়েছে।

প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি এখনই কঠোর নজরদারি, নিয়মিত অভিযান এবং অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ টমটম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।