নিজস্ব প্রতিবেদক:
‘জুলাইয়ের রক্তে ভেজা আদালত কার—ইনসাফের নাকি গণহত্যাকারী আওয়ামী দোসরদের?’—এই শিরোনামে সংবাদ সম্মেলন করেছে জুলাই শহীদ পরিবার ও গণঅভ্যুত্থানের শক্তি। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের মানিক মিয়া হলে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে ন্যায়বিচার ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা থাকলেও পুলিশ, আদালতসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে পতিত আওয়ামী সরকারের ‘দোসরদের’ প্রভাব এখনো রয়েছে। তাদের দাবি, এ পরিস্থিতির কারণে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের হত্যার বিচার নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের কর্মী সাধনা মহলকে বিভিন্ন মামলায় হয়রানি ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে। তাদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দায়ের করা ১১টি মামলায় তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। ২৩ আগস্ট ২০২৬ সিএমএম আদালত-১৪ থেকে সাধনা মহলকে ঢাকার বিমানবন্দরে গ্রেপ্তারের আদেশ দেওয়া হয় বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়। ৫ সেপ্টেম্বর দেশে ফেরার পরও তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বক্তারা।
বক্তারা আরও দাবি করেন, জুলাই শহীদদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়ন ও স্বীকৃতির কাজ এখনো শেষ হয়নি। পাশাপাশি জুলাই গণহত্যা, গুম, খুন, ক্রসফায়ার ও ‘আয়নাঘরে’ বন্দি রাখার অভিযোগগুলোর বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সাধনা মহল জুলাই শহীদ পরিবার ও আহতদের অধিকার আদায়ে কাজ করেছেন। শহীদদের স্বীকৃতি, ক্ষতিপূরণ এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনে তিনি ভূমিকা রেখেছেন বলেও দাবি করেন আয়োজকরা।
সংবাদ সম্মেলনে ৬ দফা দাবি
১. আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সাধনা মহলের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলাগুলো আইনানুগ প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি বা খারিজের উদ্যোগ নেওয়া এবং এ বিষয়ে আইন বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়ার দাবি।
২. স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) ইমিগ্রেশন বিভাগকে নির্দেশ দিয়ে সাধনা মহলের পাসপোর্টের ওপর থাকা ব্লক তুলে নেওয়া এবং মামলা নিষ্পত্তির আগে পুনরায় ব্লক না করার দাবি।
৩. সাধনা মহলের বিরুদ্ধে সাইবার নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা মামলাসহ সংশ্লিষ্ট বিচারিক হয়রানি বন্ধে আইনমন্ত্রীর কার্যকর হস্তক্ষেপের দাবি।
৪. এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টরের কাছে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কথিত অনিয়ম ও হয়রানির বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের ইআরডির মাধ্যমে অনুরোধ জানানোর দাবি।
৫. ফ্যাসিস্ট রেজিমে সংঘটিত গুম, খুন, ক্রসফায়ার, ‘আয়নাঘরে’ বন্দিত্ব, শহীদ হাদী হত্যাসহ জুলাই গণহত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি।
৬. সচিবালয়, আদালত, পুলিশ, গণমাধ্যম ও বিদেশি সংস্থাগুলোকে পতিত আওয়ামী সরকারের কথিত দোসরদের প্রভাবমুক্ত করার দাবি।
সংবাদ সম্মেলনে আয়োজকরা প্রধানমন্ত্রী , স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীর প্রতি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। তারা বলেন, “আমরা জুলাই শহীদ পরিবার ও গণঅভ্যুত্থানের শক্তি—আমরা প্রতিশোধ নয়, ইনসাফ চাই।