আবদুল বাসেদ,সিনিয়র রিপোর্টার নোয়াখালী:মহান সষ্টার মহান ক্ষমতার কিঞ্চিত পরিমান অলৌকিক ক্ষমতা দান করেন তার বন্ধু বা ওলিদের।এ ওলি- আউলিয়ার মাধ্যমে আল্লাহ প্রকাশ করেন তার সকল শেফাতি বা গুনবাচক নামের মাহাত্ব। হাফেজ মহিউদ্দিন(রঃ) তাদের মধ্যে একজন বলে হাজার ভক্ত কুল বিশ্বাস করেন।নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নে হাফেজ বাবা খ্যাত- খাজা হাফেজ মহিউদ্দিন(রঃ) এর মাজার অবস্থিত।
১১ই রবিউসসানি ১৩০৮ হিজরী মোতাবেক ১২৯৩ বাংলা, ১৮৮৮ ইংরেজী সালে একলাশপুরের সম্ভ্রান্ত এক মুসলিম বুজুর্গ পরিবারে তাঁর জন্ম। বাবার নাম হাফেজ হায়দর উদ্দিন(রঃ) মাতার নাম হাফেজা বদরুন্নেছা(রঃ)। তার প্রপিতামহ বোরহান উদ্দিন কাজী সাহেব ইরাকের বাগদাদ শহর থেকে ইসলাম প্রচারের জন্য পাকভারত উপমহাদেশে আসেন।বাগদাদ শহর হতে তিনি এসেছেন বলে অনেকে তাঁেক ‘বাগদাদী’ বলে ডাকতেন।বাগদাদ শহরে তাঁর পূর্ব পূরুষগন বিচার কার্য করতেন বলে কাজী হিসাবে ভূষিত ছিলেন। তাঁর দাদা হযরত মুন্সী কাজী লক্ষীপুরের দত্ত পাড়ায় বসবাস করতেন। তিনি ৬ ছেলে ১ মেয়ে রেখে সেখানেই ইন্তেকাল করেন। তাঁর বংশীয় লোকেরা বেগমগঞ্জের একলাশপুর-হাজিপুর-খানপুরসহ নানা এলাকায় বসবাস গড়ে তোলেন। তাঁর বাবা হাফেজ হায়দার উদ্দিন কাজী দত্তপাড়ায় কোরআনে হাফেজ শিক্ষা শেষ করে হাজিপুর মনিরউদ্দিন ভূইয়া বাড়ীর পাশের হাফেজিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষকতা ও মাদ্রাসা মসজিদে ইমামতি করতেন। মনির উদ্দিন ভূইয়ার ১মা কন্যা বদরুন্নেছা তার কাছে কোরআন হেফজো করেন এবং তাকে সে বিয়ে করেন। পরবর্তিতে চাচা ছদর উদ্দিনের একলাশপুরের বাড়ীতে চলে আসেন। এক পর্যায়ে চাচা তাঁেক ২ একর জমি দান করলে স্থায়ী ভাবে একলাশপুর বসবাস শুরু করেন এবং আটিয়াবাড়ী মসজিদে ইমামতি করতেন। সে সুবাধে সেখানে একটি হাফেজিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। হাফেজ মহিউদ্দিন (রঃ) ৫ ভাই বোনের ৪র্থ সন্তান। শৈশবে বাবা মায়ের কাছে লেখাপড়া শুরু করেন। ৭ বছর বয়সে একলাশপুর বাজারের পাশে মৌলভী দানা মিয়ার বাড়ীতে, পরে আহাম্মদ আলীর ঘরোয়া মক্তবে লেখা পড়া করেন। ১০/১১ বছর বয়সে কোম্পনীগঞ্জ উপজেলার বামনীর চরফকিরাতে ওস্তাদ হাফেজ আবদুল ওহাবের নিকট কোরআন শিক্ষার জন্য ভর্তি হন। পেশকার হাটের পেশকার বাড়ীতে লজিং থাকতেন।
২০/২২ বছর বয়সে কোরআন শিক্ষা শেষ করে তিনি নিজ বাড়ীতে ফিরেন। বামনী থেকে আসলে বাবা মা তাঁকে জিরতলী ইউনিয়নের মুজহিদপুর গ্রামের চাশরাশি বাড়ীর সাফিয়া খাতুনের সাথে তার বিয়ে দেন। লাকসামের নবাব বাড়ী মসজিদে ইমামতি ও মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসাবে চাকুরিতে যোগ দেন।নবাব বাড়ীর পীরে কামেল দুলা মিয়ার কাছ থেকে তার এলমে মারফত শিক্ষা শুরু হয়। সাধনার স্বার্থে পীরের ইশারায় বিয়ের ৩ মাস পর স্ত্রীকে তালাক দেন। দীর্ঘ সময় সাধনা শেষে পীরের পরামর্শে তিনি সন্দীপ চলে যান। চাকুরী আর এবাদত বন্দীগিতে মসগুল থেকে এক পর্যায়ে কখনো সালেকিন আর কখনো মজ্জুম হয়ে যেতেন। ছাত্র জীবন থেকে সুদীর্ঘ এ বয়সে তাহার অনেক হেকমত/অলৌকিক কর্মকান্ড অনেকের চোখে পড়ায় তিনি ক্রমান্বয়ে শ্রদ্ধেয় হয়ে উঠতে থাকেন। নিজ বাড়ী ছাড়া চৌমুহনীসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় এবং ঢাকা জেলার আদমজী,চাষাড়াসহ দেশের নানা এলাকায় আস্তানা করে তিনি অবস্থান করেছেন ।মৃত্যুর অল্প কিছুদিন আগে তিনি নিজ জেলায় চলে আসেন।একাধিক সূত্রে জানা গেছে-হাফেজ মহিউদ্দিন পর্দা (মৃত্যুর) নেয়ার আগে তাঁর রওজা কোথায় হবে, কি ভাবে হবে তার নির্দেশনা দিয়ে গেছে।এক তথ্যে জানা গেছে সম্ভবতঃ ১৯৬৬ ইং সালে একলাশপুর বিতেন সর্দার বাড়ীর মোহর আলীকে নিয়ে হাফেজ সাহেব নিজেই বর্তমান রওজার জায়গা দেখিয়ে দিয়ে গেছে। ১৯৭৩ইং সনে চাসাড়ার বুড়ির ঢেরায় থাকা কালে তাঁর ছোট ভাই ক্বারী সফি উদ্দিনের মাধ্যমে আলীপুরের আবদুল মান্নান সাহেবকে ডেকে নেন। পূর্ব নির্ধারিত জায়গায় তাঁর বাবা মা-র মাজারের পাশে রওজা শরীপ নির্মানের পরামর্শ দেন।রওজা নির্মানের প্রস্তাবিত জায়গাটি ছিল ভিন্ন মালিকের । জনাব মান্নান নিজ টাকায় উক্ত জায়গা কিনে নিয়ে রওজা নির্মানের কাজ শুরু করে দিলেন। রওজার যাবতীয় কাজ তাঁর পরামর্শেই করা হয়েছে ।বর্তমানে রওজার সকল সম্পত্তি ২০০২ সালে থেকে হাফেজ মহিউদ্দিন ওয়াক্ফ স্টেটের অন্তর্ভূক্ত। ১১ রবিউসসানি ১৩৯৭ হিজরী মোতাবেক ৩০শে চৈত্র ১১৩৮২ বাংলা,১৩ই এপ্রিল ১৯৭৬ইং রোজ মঙ্গলবার বেলা আনুমানিক ১১ ঘটিকায় চন্দ্র বছর হিসাবে ৮৯ বছর আর সৌরবৎসর হিসাবে ৮৮ বছর বয়সে বর্তমান রওজায় অবস্থান কালে ইহকাল থেকে বিধায় নেন।প্রতি বছর এ দিনে রওজায় ওরশ শরীফ পালন করা হয়। লাখ লাখ ভক্তরা অনুরাগীসহ সাধারন মানুষ এতে অংশ গ্রহন করে।