সেনবাগে চুলার পাইপে ৬০০০ ইয়াবা, পাচারকারী চক্রের মূল হোতা গ্রেপ্তার

সোমবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬

আবদুল বাসেদ ,সিনিয়র রিপোর্টার নোয়াখালী : নোয়াখালীর সেনবাগে অভিনব কায়দায় গ্যাসের চুলার স্টেইনলেস স্টিলের পাইপের ভেতর লুকিয়ে পাচারের সময় ৬ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) ও এসআরবি-১১-এর যৌথ দল।

এ ঘটনায় কক্সবাজারভিত্তিক একটি মাদক পাচারকারী চক্রের মূল হোতা হিসেবে অভিযুক্ত আমিন হোসেন (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা থেকে ১টার মধ্যে সেনবাগ উপজেলার সেবারহাট পূর্ব বাজার এলাকার ফেনী-লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে মায়ের দোয়া ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের সামনে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

গ্রেপ্তার আমিন হোসেন নোয়াখালীর সুধারাম থানাধীন ২ নম্বর দাদপুর ইউনিয়নের বারাহিপুর দক্ষিণ দর্জি বাড়ির মৃত আনোয়ার উল্যার ছেলে। তার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে।ডিএনসি সূত্র জানায়, সম্প্রতি নোয়াখালীতে ইয়াবা পাচারবিরোধী অভিযান জোরদারের মধ্যে কক্সবাজারভিত্তিক একটি মাদক পাচারকারী চক্রের সন্ধান পায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

চক্রটি গ্যাসের চুলার লোহার পাইপের ভেতরে ইয়াবা লুকিয়ে পরিবহনের মাধ্যমে পাচার করছে—এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ডিএনসি নোয়াখালী, এসআরবি-১১ সিপিসি-৩ নোয়াখালী এবং এসআরবি-৭ সিপিসি-১ ফেনী তথ্য সংগ্রহ ও পারস্পরিক সমন্বয় করে।এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিদর্শক বাপন সেনের নেতৃত্বে ডিএনসি নোয়াখালীর একটি দল এবং এসআরবি-১১ সিপিসি-৩ নোয়াখালীর একটি টহল দল সেবারহাট এলাকায় অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহনে তল্লাশি শুরু করে।এ সময় এসআরবি-৭ সিপিসি-১ ফেনীর সহযোগিতায় চট্টগ্রাম থেকে নোয়াখালীগামী ‘বাঁধন পরিবহন’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির একপর্যায়ে আমিন হোসেনকে আটক করা হয়।

ডিএনসি সূত্রের দাবি, আটক আমিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাসের মালামাল বহনকারী বক্স থেকে স্টেইনলেস স্টিলের তৈরি একটি চুলা উদ্ধার করা হয়। পরে ঘটনাস্থলে থাকা মায়ের দোয়া ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের এক কর্মচারীর সহায়তায় চুলাটির পাইপ পরীক্ষা করা হয়। এ সময় পাইপের ভেতরে ঝালাই করা অবস্থায় লুকানো ৬ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।উদ্ধার করা ইয়াবাগুলো অবৈধ অ্যাম্ফিটামিনযুক্ত বলে জানিয়েছে ডিএনসি। একই সঙ্গে আসামির কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) ধারার সারণির ১০(গ) ক্রমিক অনুযায়ী মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নোয়াখালী জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক সুব্রত সরকার শুভ এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, নোয়াখালীতে মাদক পাচার ও সরবরাহ বন্ধে ডিএনসি, এসআরবি-১১ সিপিসি-৩ নোয়াখালী এবং এসআরবি-৭ সিপিসি-১ ফেনীর যৌথ অভিযান অব্যাহত থাকবে।