জাতির সংবাদ ডটকম।।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। দলীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন কমিটি ঘোষণা হতে পারে। সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো নিয়ে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে প্রথম ধাপে ‘সুপার ফাইভ’ নাকি একবারেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে—সেটিও এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
দলীয় নেতারা জানান, যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার পর এবার স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতৃত্ব পুনর্গঠনে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, সাংগঠনিক দক্ষতা, ত্যাগ, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি এবং আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে মাঠপর্যায়ে কার্যকরভাবে কাজ করার সক্ষমতাকে বিশেষভাবে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
দলীয় সূত্র বলছে, এবার শুধু জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে নয়, সাংগঠনিক সক্রিয়তা, রাজনৈতিক ঝুঁকি নেওয়ার মানসিকতা এবং কেন্দ্রীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নের সক্ষমতাকেও মূল্যায়ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।
বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, স্বেচ্ছাসেবক দলকে আরও গতিশীল ও সুসংগঠিত করতে নেতৃত্ব বাছাইয়ের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বর্তমান ও সাবেক নেতাদের মধ্যে তৎপরতা বেড়েছে। সম্ভাব্য পদপ্রত্যাশীরা বিএনপির নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং নিজেদের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের বিবরণও জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে দায়িত্বশীল নেতারা বলছেন, ব্যক্তিগত তদবিরের চেয়ে রাজনৈতিক অবদান, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, মামলা, কারাবরণ ও নির্যাতনের শিকার নেতাদের ত্যাগকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন কমিটির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে সারাদেশে সংগঠনকে আরও সক্রিয় করা, তৃণমূলের ইউনিটগুলো পুনর্গঠন এবং নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা।
দলীয় সূত্র জানায়, এবার কেন্দ্রীয় কমিটিতে অভিজ্ঞ নেতাদের পাশাপাশি আন্দোলনে সক্রিয় তরুণ নেতৃত্বকেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। এতে যেমন সাংগঠনিক ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে, তেমনি ভবিষ্যৎ নেতৃত্বও তৈরি হবে।
সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি ইয়াসিন আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান এবং সহসভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিন।
অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে সম্ভাব্যদের তালিকায় রয়েছেন সাবেক ছাত্রনেতা কাজী মোক্তার হোসেন, শেখ মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন এবং জহির উদ্দিন তুহিন।
বর্তমান কমিটির যুগ্ম সম্পাদক কাজী মোক্তার হোসেন বলেন, শিগগিরই কমিটি ঘোষণার কথা শুনেছেন এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যাদের দায়িত্ব দেবেন, তাদের নেতৃত্বেই সংগঠন এগিয়ে যাবে।
সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান বলেন, বর্তমান সভাপতি এস এম জিলানী দেশের বাইরে থাকায় সাম্প্রতিক বৈঠকে সিনিয়র সহসভাপতি ইয়াসিন আলী, সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান এবং তিনি উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে তারেক রহমান শিগগিরই নতুন কমিটি দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, দল যাদের দায়িত্ব দেবে, তাদের নেতৃত্বেই সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন।
উল্লেখ্য, ১৯ আগস্ট ১৯৮০ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটি গঠিত হয় ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ায় নতুন কমিটি নিয়ে নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা তুঙ্গে। এখন সবার দৃষ্টি কবে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয় সেদিকে।