এ্যানির সঙ্গে পদবঞ্চিত যুবদল নেতাদের বৈঠক: অনিয়মের অভিযোগে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা

বুধবার, জুলাই ২৯, ২০২৬

জাতির সংবাদ ডটকম।। 

যুবদলের সদ্য ঘোষিত কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ না পাওয়া নেতারা আবারও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে তারা কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনকে ঘিরে নানা ধরনের অনিয়ম, পদ বাণিজ্য এবং ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের মূল্যায়ন না করার অভিযোগ তুলে ধরেন। একই সঙ্গে এসব অভিযোগের সুষ্ঠু সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।

পদবঞ্চিত নেতাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাত ১১টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডিতে শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানির বাসভবনে তারা সাক্ষাৎ করেন। সেখানে তারা দীর্ঘ সময় ধরে নিজেদের অভিযোগ, ক্ষোভ এবং দাবি তুলে ধরেন।

বৈঠকে নেতারা বলেন, গত ৪ জুন যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার পর থেকেই তারা ধারাবাহিকভাবে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের সিনিয়র নেতাদের কাছে লিখিত ও মৌখিকভাবে অভিযোগ জানিয়ে আসছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কেবল আশ্বাস ছাড়া কোনো কার্যকর উদ্যোগ বা দৃশ্যমান সমাধান পাননি। এতে পদবঞ্চিত নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ আরও বেড়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন।

তাদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় কমিটিতে এমন অনেক ব্যক্তি স্থান পেয়েছেন যারা সাংগঠনিকভাবে বিতর্কিত, দীর্ঘদিন দলীয় কর্মকাণ্ডে নিষ্ক্রিয় কিংবা অনৈতিক উপায়ে পদ লাভ করেছেন। অন্যদিকে দলের দুঃসময়ে রাজপথে সক্রিয় থাকা, মামলা-হামলা ও নির্যাতনের শিকার ত্যাগী নেতাদের অনেকেই মূল্যায়ন পাননি। এ কারণে তারা যুবদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের প্রতি আহ্বান জানান, অনিয়মের মাধ্যমে পদ পাওয়া ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করে তদন্তের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে।

পদবঞ্চিত নেতারা আরও দাবি করেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হবে তাদের কমিটি থেকে বাদ দিয়ে প্রকৃত ত্যাগী, পরীক্ষিত ও সাংগঠনিকভাবে গ্রহণযোগ্য নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তারা বলেন, এ দাবির বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

বৈঠকে শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি পদবঞ্চিত নেতাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন। তিনি জানান, বিষয়টি বিএনপির মহাসচিবসহ দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নজরে রয়েছে। তিনি আশ্বাস দেন, দ্রুত সময়ের মধ্যেই বিষয়টি নিয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত গ্রহণের চেষ্টা করা হবে এবং সমস্যার গ্রহণযোগ্য সমাধান বের করতে দলীয় নেতৃত্ব কাজ করছে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিক, হুমায়ুন কবির, সাজ্জাদ হোসেন উজ্জ্বল, জাকির হোসেন খান, যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক গ্রাম বিষয়ক সম্পাদক রিয়ন তালুকদার, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসান, যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক দেওয়ান অলিউদ্দিন সুমন দেওয়ান, তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ইসমাইল খান শাহিন, ছাত্রদলের ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সহ-সভাপতি শরীফ হাফিজুর রহমান হাফিজ, সাবেক সহ-ক্রীড়া সম্পাদক আমান উল্লাহ বিপুল, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম ফারুকসহ যুবদল ও ছাত্রদলের অসংখ্য সাবেক কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতা।

এছাড়াও সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ মাসুদ, আসাদুল আলম টিটু, বাছেদুর রহমান সোহেল, আব্দুর রহিম, শাহিন আকন্দ, শাহিনুজ্জামান মিন্টু, গোলাম আযম সৈকত, আজিজুল হক পাটোয়ারী, মিজানুর রহমান মোল্লা, অ্যাডভোকেট শফিউল বশর সজল, মাসুদ আহমেদ, সেলিম হোসেন মুন্না আকন্দ, মিজানুর রহমান খান, আনোয়ার জাহিদ, শরীফ আল ফরহাদ দিপু, মাহমুদ খান, কাজী মেজবাউল আলম, মুজাহিদুল ইসলাম, মোহাম্মদ আরিফ, সুমন চৌধুরী, মাসুদ সরকার, সবুর খান সাগর, রাকিবুল ইসলাম রোকন, ফজলুল হক নীরব, জাহাঙ্গীর আলম, ইয়াকুব রাজু, শফিউল আযম, স্বপন কুমার মন্ডল, রবিউল হাসান আরিফ, নজরুল ইসলাম নাহিদ, বিশ্বজিৎ ভদ্র, ফরিদ খান, মহিবুল্লাহ জয়, সেলিম রেজা, আজিম উদ্দিন মিরাজ, এম কামরুল ইসলাম, খসরু আহমেদ হিরন, কবির আহমেদ, খন্দকার আমিনুল হক আকন, মাজেদুল ইসলাম মাসুম, জসিম উদ্দিন সিদ্দিকী শোভন, মাইন উদ্দিন বেগ সুজন, নজরুল ইসলাম, এমদাদুল হক পারভেজ, জাহিদুল ইসলাম হিরন, আমির হোসেন বাদশা, দুলাল মাতব্বর, মাসুদ রানা, মানিক হোসেনসহ আরও অনেক সাবেক নেতা উপস্থিত ছিলেন।

পদবঞ্চিত নেতারা আশা প্রকাশ করেন, দলীয় শীর্ষ নেতৃত্ব তাদের দাবি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানের মাধ্যমে সংগঠনের ঐক্য ও গতিশীলতা আরও শক্তিশালী হবে।