পদবঞ্চিত যুবদল নেতাদের গুলশান কার্যালয়ে অবস্থান কর্মসূচি, শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা

রবিবার, আগস্ট ২, ২০২৬

 

গাজী আক্তার।।

কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদবঞ্চিত হওয়ার অভিযোগে যুবদলের প্রায় দেড় শতাধিক সাবেক নেতা শনিবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের সামনে মৌন অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন।

পদবঞ্চিত নেতাদের দাবি, গত ৪ জুন ঘোষিত যুবদলের ১৫১ সদস্যের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে পদায়নের ক্ষেত্রে পদবাণিজ্য, ত্যাগী নেতাদের অবমূল্যায়ন এবং দীর্ঘদিন রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় থাকা ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে স্থান দেওয়া হয়েছে। এসব অভিযোগের প্রতিবাদে ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে তারা এ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

বিকেল ৪টা থেকে সাবেক যুবদল ও ছাত্রদলের নেতারা বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে শান্তিপূর্ণভাবে কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। এ সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কার্যালয়ে প্রবেশের সময় তাদের অবস্থান সম্পর্কে খোঁজ নেন। পদবঞ্চিত নেতারা নিজেদের অভিযোগ তুলে ধরলে তিনি বিষয়টি দেখবেন বলে তাদের আশ্বস্ত করেন। এতে উপস্থিত নেতাকর্মীরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

অবস্থানকারী নেতাদের অভিযোগ, দীর্ঘ ১৭ বছর রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা, হামলা ও নির্যাতনের শিকার হওয়া অনেক ত্যাগী নেতাকে নতুন কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে, যারা অতীতে ছাত্রদলের কোনো পর্যায়ের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন না কিংবা দীর্ঘদিন সংগঠন থেকে দূরে ছিলেন, তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

পরে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের প্রতিনিধিরা পদবঞ্চিত নেতাদের অপেক্ষা করতে অনুরোধ করেন। তবে দলীয় সূত্রে জানা যায়, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দলের স্থায়ী কমিটির সঙ্গে বৈঠক শেষে জরুরি রাষ্ট্রীয় কাজে কার্যালয় ত্যাগ করেন। এ সময় নেতারা তার সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে গেলে তিনি হাত নেড়ে তাদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বিদায় নেন।

এদিকে, কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে মতবিরোধ এবং বৈঠকে উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার অভিযোগও তুলে ধরেন পদবঞ্চিত নেতারা। যদিও পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট দুই নেতা সংবাদ সম্মেলনে এমন ঘটনার কথা অস্বীকার করেন।

অবস্থান কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদল ও যুবদলের কেন্দ্রীয় এবং বিভিন্ন ইউনিটের সাবেক নেতারা। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন— রফিকুল ইসলাম রফিক, হুমায়ুন কবির, সাজ্জাদ হোসেন উজ্জ্বল, জাকির হোসেন খান, রিয়ন তালুকদার, দেওয়ান অলিউদ্দিন সুমন দেওয়ান, মিজানুর রহমান সোহাগ, মাহফুজুর রহমান মাহফুজ, ইসমাইল খান শাহিন, হাফিজুর রহমান হাফিজ, গোলাম ফারুক, খালেদ মাহমুদ মাসুদ, আসাদুল আলম টিটু, আমান উল্লাহ বিপুল, বাছেদুর রহমান সোহেল, আব্দুর রহিম, শাহিন আকন্দ, শাহিনুজ্জামান মিন্টু, গোলাম আযম সেকত, আজিজুল হক পাটোয়ারী, বেলাল হোসেন ইমন, মিজানুর রহমান মোল্লা, অ্যাডভোকেট শফিউল বশর সজল, মাসুদ আহমেদ, সেলিম হোসেন মুন্না আকন্দ, মিজানুর রহমান খান, শরীফ আল ফরহাদ দিপু, কাজী মেজবাউল আলম, মুজাহিদুল ইসলাম, আনোয়ার জাহিদ, মোহাম্মদ আরিফ, সুমন চৌধুরী, মাসুদ সরকার, সবুর খান সাগর, রাকিবুল ইসলাম রোকন, ফজলুল হক নীরব, জাহাঙ্গীর আলম, ইয়াকুব রাজু, শফিউল আযম, স্বপন কুমার মণ্ডল, রবিউল হাসান আরিফ, নজরুল ইসলাম নাহিদ, বিশ্বজিৎ ভদ্র, ফরিদ খান, মহিবুল্লাহ জয়, সেলিম রেজা, আজিম উদ্দিন মিরাজ, এম কামরুল ইসলাম, খসরু আহমেদ হিরন, কবির আহমেদ, খন্দকার আমিনুল হক আকন, মাজেদুল ইসলাম মাসুম, জসিম উদ্দিন সিদ্দিকী শোভন, মাইন উদ্দিন বেগ সুজন, নজরুল ইসলাম, এমদাদুল হক পারভেজ, জাহিদুল ইসলাম হিরন, আমির হোসেন বাদশা, খলিলুর রহমান জনি, মাহমুদ খান, দুলাল মাতব্বর, মাসুদ রানা, মানিক হোসেনসহ আরও অনেকে।