জাতির সংবাদ ডটকম।।
“বহু কাঙ্ক্ষিত, বহু ত্যাগ, বহু আত্মত্যাগের বিনিময়ে ৫ই আগস্ট ও ১২ই ফেব্রুয়ারি একটি গণতান্ত্রিক বিজয় সূচিত হয়েছিল। এই নির্বাচনের পেছনে গত ১৭ বছর বহু নির্যাতন-নিপীড়ন ভোগ করেছে জাতীয়তাবাদী শক্তির নেতাকর্মীরা” বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার প্রতিবাদে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির উদ্যোগে আজ মঙ্গলবার বেলা ৩টায় উত্তরার আব্দুল্লাহপুর সংলগ্ন পলওয়েট মার্কেটের সামনে এক সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
মিছিল পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে রুহুল কবির রিজভী বলেন, গুম-খুন, গুপ্তহত্যা, বিচার বহির্ভূত হত্যা এই ছিল রাজনৈতিক কালচার। এই রকম একটি দু:শাসনের পর ছাত্র-জনতার বিপুল উত্থানে পরাজিত হয়েছে শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, জনগণের টাকা যারা চুরি করে, সম্পত্তি যারা লুট করে তাদের পালাতে হয়। কিছুদিন হয়তো ভোগ করে কিন্তু পৃথিবীর ইতিহাসে সবাইকেই পালাতে হয়েছে।
আওয়ামী দু:শাসনের স্মৃতি স্মরণ করে তিনি বলেন, আমরা যারা গণতন্ত্র ফেরানোর আন্দোলনে ছিলাম, আমাদের দাবী একটাই ছিল অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন। এই অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচনের পর যারাই ক্ষমতায় আসুক। আবার ৫ বছর পর জনগণ যাকে ভোট দিবে, তারা ক্ষমতায় আসবে।
বিরোধী জোটের উদ্দেশে তিনি বলেন, কেন যেন মনে হচ্ছে আওয়ামী ফ্যাসিবাদ এখনো বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিরাজমান। ১১ দলীয় জোটের একজন তরুণ নেতা বলেছেন, তারেক রহমানকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তিনি কিভাবে পালাবেন। তারেক রহমান কি জোর করে ক্ষমতায় এসেছেন? এই আওয়াজ তো ফ্যাসিবাদের আওয়াজ। এই আওয়াজে কোন গণতন্ত্রের সুর নেই। আপনারা বলছেন জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির কথা। কিভাবে নিয়ন্ত্রণ হবে, আপনারা প্রস্তাব দিন। তারেক রহমানের ইচ্ছায় কি ইরান-আমেরিকার যুদ্ধ হচ্ছে। আন্তর্জাতিকভাবে বৈশ্বিক সংকটের কারণে দাম বাড়ছে।
প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তেল সংকট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী পৃথিবীর নানা দেশে কথা বলছেন। কিছুদিন আগে মালয়েশিয়া গিয়েছিলেন। ১ লিটার ডিজেল কিনতে আমাদের ২০৫ টাকা খরচ হয় এবং বিক্রি করি ১১৫ টাকায়। প্রতি লিটারে ৯০ টাকা ভর্তুকি দিয়েছি জনগণ যেন কষ্ট না পায়। আমরা মাত্র বিশ টাকা বাড়িয়েছি। ভারতে এখন লিটার ১৪০.৬০ টাকা, ১১৫ টাকায় বিক্রির ফলে স্মাগলিং হয়ে অন্য দেশে চলে যেতো।
ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, এখন কার্তিক মাস, এটাকে মরা কার্তিক বলা হয়। এ মাসে কৃষকের হাতে কোন কাজ থাকে না। জনগণের টাকা যদি ভর্তুকিতে চলে যায় তাহলে এই জনবান্ধব কার্ডের টাকা তারা কোথায় পাবে? তারা মাসে আড়াই হাজার টাকা পাচ্ছেন। তিনি ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা দিচ্ছেন। এটা হচ্ছে সামাজিক সুরক্ষা। ফ্যাসিবাদী হাসিনা ব্যাংকগুলো শূন্য করে গেছে। হতদরিদ্র মানুষকে তো আগে সহযোগিতা করতে হবে।
তিনি বলেন, গতকাল পুলিশ শুধু ঢাকায় তল্লাশী করে ৪৭২ জনকে আটক করেছে। চাঁদাবাজি-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছি।
তিনি বিরোধী দলের লংমার্চের সমালোচনা করে বলেন, ৪৫০টি গাড়ি নিয়ে আপনারা রংপুর গেছেন। এর আগে গেছেন চট্টগ্রামে। জামায়াতের আমীর অবশ্য বলেছেন এক হাজার গাড়ি। তার কথাই যদি সত্য ধরে নেই, তাহলে এতগুলো গাড়ী নিয়ে রংপুর রওনা হয়েছেন। শুধুমাত্র সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের উদ্দেশ্যে আপনারা গিয়েছেন। এটা কোন ধরনের রাজনীতি? আপনারা কাদেরকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন? লেডি ফেরাউনের রাজত্ব যদি আবার ফিরে আসে, কেউ কি রেহাই পাবেন?
নিরাপদে লংমার্চ করার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, আজকে আপনারা কর্মসূচী করছেন। যদি আওয়ামী লীগের যুগ হতো, আপনারা কত জায়গায় বাধা পেতেন। টাঙ্গাইলে বাধা পেতেন, সিরাজগঞ্জে বাধা পেতেন। আপনারা কর্মসূচীর নামে মিথ্যাচার করছেন, নোংরামি করছেন।
শেখ হাসিনা বিরোধীদের নামে আজেবাজে, মিথ্যাচার করেছেন। এগুলো জনগণ পছন্দ করেন না। সুতরাং যারা গণবিরোধী তাদের এইভাবেই পালিয়ে যেতে হয়। জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে। এই অগ্রগতির ধারা কেউ থামাতে পারবে না। এই শক্তি জনগণের শক্তি।
ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব মোস্তফা জামান। সমাবেশে ফেরদৌসী মিষ্টি এমপি, মহানগর উত্তরের সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক মুস্তাফিজুর রহমান সেগুনসহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সন্ধ্যায় সমাবেশ শেষে মিছিল শুরু হয়ে উত্তরার আজমপুর গিয়ে শেষ হয়।