বিকুল চক্রবর্তী, মৌলভীবাজার।।
স্বজনের মৃত্যুর খবর পেয়ে বাড়ি থেকে গিয়েছিলেন শেষকৃত্যে। সৎকার শেষে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ফিরছিলেন বাড়ির পথে। তবে সেই ফেরা আর হলো না। বাসের চাপায় অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তিনজনের।
মঙ্গলবার রাত ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার লছনা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত দুজন হলেন শ্রীমঙ্গলের মাইজদী চা বাগানের ইউপি সদস্য অমৃত সিং ছত্রির ছেলে জয় সিং ছত্রি (২৫) এবং একই বাগানের চা শ্রমিক সুশীল নায়েকের ছেলে পাপ্পু নায়েক (২৪)। নিহত অপর ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। তিনি সিএনজি চালিত অটোরিকশাটির চালক বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, জয় ও পাপ্পু তাঁদের এক আত্মীয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে হবিগঞ্জের চুন্টিছড়া চা বাগানে গিয়েছিলেন। সেখানে শেষকৃত্য শেষে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে শ্রীমঙ্গলের উদ্দেশে ফিরছিলেন তাঁরা।
রাত ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে লছনা এলাকায় পৌঁছালে ময়মনসিংহগামী যাত্রীবাহী বাস আলম এশিয়া শ্রীমঙ্গলগামী ওই অটোরিকশাটিকে চাপা দেয়। এতে অটোরিকশাটি বাসের নিচে পড়ে দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
দুর্ঘটনার পর সাতগাঁও হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয়রা অটোরিকশার ভেতর থেকে তিনজনকে উদ্ধার করে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষনা করেন।
শ্রীমঙ্গল ৫০ শয্যা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মো. নাভিদ বলেন, রাত সোয়া ৯টার দিকে তিনজনকে হাসপাতালে আনা হয়। তবে হাসপাতালে আনার আগেই তাঁদের মৃত্যু হয়েছে।
তিনি বলেন, নিহতদের সবার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত এবং প্রচুর রক্তক্ষরণের চিহ্ন ছিল। তাঁদের মধ্যে একজনের পা ভেঙে গিয়েছিল।
সাতগাঁও হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মমিনুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় তিনজনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। দুর্ঘটনায় জড়িত বাস ও এর চালককে আটক করা হয়েছে।
তিনি বলেন, নিহতদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে স্বজনের সৎকার শেষে বাড়ি ফেরার পথে জয় ও পাপ্পুর মৃত্যুতে মাইজদী চা বাগানে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।