হেলেন জেরিন খানকে ঘিরে অপপ্রচারের অভিযোগ, নিন্দা ও প্রতিবাদ

রবিবার, অক্টোবর ১১, ২০২৬

ফরিদপুর প্রতিনিধি।।

ফরিদপুর-১ (মধুখালী–বোয়ালমারী–আলফাডাঙ্গা) আসনের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খানকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত কিছু ছবি ও তথ্য নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এসব ছবি সম্পাদনা করে এবং তথ্যের আংশিক উপস্থাপনের মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ তুলে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট প্রতিবাদী বক্তব্যে বলা হয়েছে, হেলেন জেরিন খানের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক অবস্থানকে কেন্দ্র করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। এ ধরনের প্রচারের মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খানের রাজনৈতিক পরিচয়

হেলেন জেরিন খান বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত। তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের মধ্যে রয়েছে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং বিএনপির সহশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিষয়টি।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, তিনি ১৯৯১ সালে ইডেন কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল মনোনীত প্রার্থী হিসেবে সহসভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হয়েছিলেন।

তিনি ফরিদপুর-১ আসনের সাধারণ আসনের সরাসরি নির্বাচিত সংসদ সদস্য নন; তিনি সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য। তবে তাঁর রাজনৈতিক কার্যক্রমের সঙ্গে ফরিদপুর-১ আসনের রাজনৈতিক, সাংগঠনিক ও সংসদীয় দায়িত্বের বিষয় যুক্ত রয়েছে বলে জানা যায়।

ডিও পত্র ও মাদ্রাসার অ্যাডহক কমিটি নিয়ে বিতর্ক

প্রতিবাদী বক্তব্যে দাবি করা হয়েছে, হেলেন জেরিন খানের সুপারিশ সংবলিত ডিও (D.O.) পত্রের ভিত্তিতে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার একটি মাদ্রাসার অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান রউফ খান।

একই বক্তব্যে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের গণআন্দোলনে রউফ খান সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। এ ছাড়া ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-১ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলামের পক্ষে নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবাদী বক্তব্য অনুযায়ী, রউফ খানের নির্বাচনী ভূমিকার সমর্থনে বিভিন্ন তথ্য ও নথি খন্দকার নাসিরুল ইসলাম হেলেন জেরিন খানের কাছে উপস্থাপন করেছিলেন। এসব তথ্যের ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্ট ডিও পত্র খন্দকার নাসিরুল ইসলামের কাছে দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয়।

ফরিদপুর-১-এর স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে সমন্বয়ের প্রসঙ্গ

হেলেন জেরিন খানের জন্ম ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড মাদারীপুরকেন্দ্রিক। অন্যদিকে, ফরিদপুর-১ আসনের স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলামের সঙ্গে সমন্বয় করে তিনি কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলে জানা যায়।

অপপ্রচারের অভিযোগে নিন্দা ও প্রতিবাদ

প্রতিবাদী বক্তব্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ছবি ও তথ্যের প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে বিষয়গুলো উপস্থাপনের আহ্বান জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনিক সুপারিশসংক্রান্ত তথ্য বিচ্ছিন্নভাবে প্রচার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

বক্তব্যে বলা হয়, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারের মাধ্যমে একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের দীর্ঘদিনের কর্মকাণ্ড ও ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।

প্রতিবাদী বক্তব্যের শেষাংশে বলা হয়েছে, “সত্যের জয় অবশ্যম্ভাবী। অপপ্রচার চালিয়ে সত্যকে ঢাকা যাবে না।