বিকুল চক্রবর্তী, শ্রীমঙ্গল
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার যোগেন্দ্র মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমা বেগমের অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দীর্ঘদিনের কর্মস্থল থেকে প্রিয় শিক্ষকের বিদায়কে ঘিরে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সহকর্মী, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও গুণগ্রাহীদের অনেকের চোখে ছিল অশ্রু। ফুল, উপহার ও ভালোবাসায় তাঁকে বিদায় জানান শত শত শিক্ষার্থী ও শুভাকাঙ্ক্ষী।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষকরা। প্রিয় শিক্ষিকার বিদায় উপলক্ষে অনেক প্রাক্তন শিক্ষার্থীও ছুটে আসেন। তাঁদের কাছে নাজমা বেগম কেবল একজন শিক্ষক নন, বরং স্নেহ, শাসন ও ভালোবাসায় গড়ে তোলা একজন অভিভাবক।
বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা জ্যোতিষ রঞ্জন দাশ। প্রধান অতিথি ছিলেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল আলম সিদ্দিকী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. কামাল উদ্দিন, শ্রীমঙ্গল পৌরসভার সাবেক কমিশনার মীর এম এ সালাম, চন্দ্রনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জহর তরফদার, কুঞ্জবন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি একরামুল কবীর এবং শ্রীমঙ্গল উপজেলা সরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির আহ্বায়ক ও প্রধান শিক্ষক মো. জাকির হোসেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, একজন শিক্ষকের প্রকৃত অর্জন তাঁর কর্মজীবনের পদ-পদবি কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক সাফল্যে সীমাবদ্ধ নয়; শিক্ষার্থীদের জীবনে তাঁর রেখে যাওয়া শিক্ষা, মূল্যবোধ ও ভালোবাসাই তাঁর সবচেয়ে বড় অর্জন। নাজমা বেগম তাঁর দায়িত্বশীলতা, আন্তরিকতা ও সদালাপী আচরণের মাধ্যমে সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছে শ্রদ্ধার আসন তৈরি করেছেন। তাঁর অবসরজনিত বিদায় বিদ্যালয়ের জন্য একটি আবেগঘন মুহূর্ত।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, বিদায় সংবর্ধনা একজন শিক্ষকের দীর্ঘ কর্মজীবনের মূল্যায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। একজন শিক্ষক যখন নিজের দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেন এবং শিক্ষার্থী ও সহকর্মীদের ভালোবাসা অর্জন করেন, তখন তাঁর বিদায় অনুষ্ঠানও হয়ে ওঠে আবেগ ও শ্রদ্ধার মিলনমেলা। নাজমা বেগমের কর্মজীবনের স্মৃতি ও অবদান তাঁর সহকর্মী এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিশেষ অতিথি মীর এম এ সালাম বলেন, নাজমা বেগম ছিলেন কর্তব্যনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল একজন প্রধান শিক্ষক। তিনি প্রতিদিন বিদ্যালয়ের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা এবং শিক্ষার্থীদের পাঠদানের বিষয়ে আন্তরিক ছিলেন। তাঁর মতো একজন শিক্ষকের বিদায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য আবেগের বিষয়। কর্মজীবনে তাঁর অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হবে।
বিদায়ী প্রধান শিক্ষক নাজমা বেগম আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, যোগেন্দ্র মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় তাঁর কাছে শুধু একটি কর্মস্থল ছিল না, এটি ছিল তাঁর আরেকটি পরিবার। দীর্ঘদিনের পথচলায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সহকর্মীদের সঙ্গে তাঁর আত্মিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। এই প্রিয় প্রতিষ্ঠান ছেড়ে চলে যাওয়া তাঁর জন্য অত্যন্ত কষ্টের। কর্মজীবনের নানা স্মৃতি এবং সবার ভালোবাসা তিনি আজীবন মনে রাখবেন।
অনুষ্ঠানে নাজমা বেগমকে ফুল, শুভেচ্ছা উপহার ও সম্মাননা দিয়ে বিদায় জানানো হয়। এ সময় অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক তাঁর সঙ্গে স্মৃতি বিনিময় করেন। প্রিয় শিক্ষিকার বিদায়ের মুহূর্তে তাঁদের আবেগঘন উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে আরও হৃদয়স্পর্শী করে তোলে।
বক্তারা তাঁর অবসরজীবন সুস্থতা, শান্তি ও আনন্দে কাটুক—এই কামনা করেন। একই সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের অবদান ও শিক্ষার্থীদের প্রতি মমত্ববোধের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।