গত জানুয়ারি-মে দেশে খুন-অপহরণসহ অপরাধ বেড়েছে, দাবি বিসিআরএসের

রবিবার, জুন ৭, ২০২৬

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ইউনুস সরকারের বিদায় ও বিএনপি সরকারের শুরু থেকে এপর্যন্ত দেশে খুন, অপহরণ, ছিনতাই, ডাকাতি, চুরি এবং নারী-শিশু নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ সিভিল রাইটস্ সোসাইটি (বিসিআরএস)। সংগঠনটির মতে, দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

রোববার (৭ জুন) এক সংবাদ বিবৃতিতে বিসিআরএসের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন এবং নির্বাহী পরিচালক শেখ মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এ তথ্য তুলে ধরেন। তারা বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শেষ সময় ও বিএনপি সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধের চিত্র বিশ্লেষণ করলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বেশ কিছু উদ্বেগজনক দিক স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

সংগঠনটির প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, জানুয়ারি–এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত দেশে ১,১৪২টি খুন হয়েছে। একই সময়ে ৩৪৭টি অপহরণ, ১৮৪টি ছিনতাই এবং ৫৯১টি ডাকাতির ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা ছিল ৫,৯৯৮টি। জানুয়ারি থেকে ২০ মে পর্যন্ত অন্তত ১১৮ জন শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে, যা সমাজের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয় বলে মনে করছে বিসিআরএস।

সংগঠনটি জানায়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কিশোর গ্যাং তৎপরতা, মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধ, চাঁদাবাজি, দখলবাজি এবং সংঘবদ্ধ অপরাধের প্রবণতাও বাড়ছে। এসব কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে শহরাঞ্চলের পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকাতেও অপরাধের বিস্তার ঘটছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

বিসিআরএসের নেতারা বলেন, বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক, অনলাইন সংবাদমাধ্যম এবং মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহের ভিত্তিতে এ পরিসংখ্যান প্রস্তুত করা হয়েছে। তাদের দাবি, প্রকৃত অপরাধের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে, কারণ অনেক ঘটনা সামাজিক, পারিবারিক কিংবা প্রশাসনিক কারণে প্রকাশ্যে আসে না অথবা থানায় অভিযোগ হিসেবে নথিভুক্ত হয় না।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই ভারত থেকে বাংলাদেশে বিভিন্ন ব্যক্তিকে পুশইনের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হচ্ছে। এ ধরনের ঘটনায় সীমান্ত নিরাপত্তা, মানবাধিকার এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। বিসিআরএস মনে করে, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অনিয়মিত অনুপ্রবেশ বা জোরপূর্বক পুশইনের ঘটনা আন্তর্জাতিক আইন এবং মানবাধিকারের প্রশ্নের সঙ্গে সম্পর্কিত। এ বিষয়ে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে কার্যকর কূটনৈতিক যোগাযোগ ও সমন্বয় প্রয়োজন বলে সংগঠনটি উল্লেখ করেছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ, মাদক নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নারী-শিশু সুরক্ষায় বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি অপহরণ, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়।

নেতৃদ্বয় বলেন, জনগণের জানমাল রক্ষা এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারে দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় সামাজিক অস্থিরতা, ভীতি এবং অপরাধপ্রবণতা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিসিআরএস দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, মানবাধিকার সংগঠন, গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটি মনে করে, নিরাপদ ও মানবিক সমাজ গঠনে রাষ্ট্রের পাশাপাশি সমাজের সব অংশীজনকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।