হাতিয়ায় খাদ্য গুদামের দারোয়ান কালামের বিরুদ্ধে নানান অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

রবিবার, আগস্ট ৩০, ২০২৬

আবদুল বাসেদ, সিনিয়র রিপোর্টার নোয়াখালী:হাতিয়ায় খাদ্য গুদামের দারোয়ান আবুল কালামের বিরুদ্ধে নানান অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

নোয়াখালী হাতিয়া উপজেলার চৌমুহনী বাজারের পাশে অবস্থিত উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অফিসের দারোয়ান আবুল কালামের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে নোয়াখালী জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বরাবরসহ সংশ্লিষ্ট একাধিক কতৃপক্ষের নিকট একটি দরখাস্ত করেছে মোহাম্মদ রাশেদ নামের এক স্থানীয় ব্যক্তি।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, হাতিয়া উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অফিসের দারোয়ান আবুল কালামের বিরুদ্ধে টোকেন বাণিজ্য, প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয় না করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ধান ক্রয় করা, মণ প্রতি ৩/৫ কেজি ধান বেশি নেওয়া, লেবারের দৈনিক মজুরির টাকা আর্তসাৎ করা, সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের কাছ থেকে নামেমাত্র ধান কিনে বাকি শত শত টন নিজে কিনে বিভিন্ন কৃষকের নামে বিল তুলে নেয়া ও একই কর্মস্থলে এক যুগের বেশি সময় ধরে চাকরি করাসহ নানান অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও একই উপজেলায় দীর্ঘদিন চাকরি করার কারণে সবকিছুতে তার একচ্ছত্র বলয় ও নিয়ন্ত্রণ থাকায় তার কূটকৌশলে অন্যান্য কর্মকর্তা কর্মচারিরা নামেমাত্র টিকে আছে বলে জানা যায়। তার বিরুদ্ধে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিকট অভিযোগ দিয়েও মিলছে না প্রতিকার। দারোয়ান আবুল কালাম বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির দায়ে স্থানীয় এলাকাবাসীর হাতে গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, দারোয়ান আবুল কালাম হাতিয়া উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে থাকায় সে গত ১৫ বছর আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মী ও নোয়াখালী সোনাপুরের লেবার শ্রমিক নিয়ন্ত্রণ বা হ্যান্ডিং ঠিকাদার তাইজুল ইসলাম ওরুফে তাজু কমিশনার এবং জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অফিসের হিসাবরক্ষক মাসুদুর রহমান মাসুদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে একটি সিন্ডিকেট তৈরি করে গুদামের কয়েল, লেবার, শ্রমিকসহ সবাইকে নিজের আয়ত্তে রেখে সকল অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। যার ফলে হাতিয়া উপজেলা স্থানীয় লোকজন ও ব্যবসায়ীরা ব্যবসায়িক সকল সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এছাড়াও গত ১ যুগ ধরে কোন নিয়ম নীতি তোয়াক্কা না করে হ্যান্ডিং ঠিকাদার একজন ব্যক্তি নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। যা প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা চরম হুমকির মুখে পড়ে। এমতাবস্থায় সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের নিকট স্থানীয় এলাকাবাসীর দাবি দারোয়ান কালামকে অন্যত্রে বদলী ও হ্যান্ডিং ঠিকাদার তাজু কমিশনারকে টেন্ডারের মাধ্যমে দ্রুত পরিবর্তন করে নতুন লোক দেওয়া হোক।এবিষয়ে হাতিয়া উপজেলার খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিসের অভিযুক্ত দারোয়ান আবুল কালাম বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগগুলো মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমি এ গুদামঘরে চতুর্থ শ্রেণীর বেতনভুক্ত একজন দারোয়ান। আমি কোন অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে জড়িত নয়। যদি ধান, গম ও চাল কেনাবেচায় কোন অনিয়ম হয়ে থাকে তার সাথে উপরের স্যারেরা জড়িত। সকল কাজের বিল পাশ হয় সব উপরের স্যারদের মাধ্যমে। এসবের সাথে আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সকল অপকর্মের সাথে আমি জড়িত আছি। আপনারা আমার বিরুদ্ধে নিউজ করেন। আমি এ উপজেলা থেকে চলে যেতে চাই। এদিকে হাতিয়া উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ শাহাদাত হোসেনের মোবাইল নাম্বারে কল দিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি।