মমিন রশীদ :
বগুড়া মহানগরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথা বীরশ্রেষ্ঠ স্কয়ার চত্তর সহ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে দীর্ঘস্থায়ী যানজটে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। প্রতিদিন ব্যস্ত সময়ে সড়কে যানবাহনের চাপ বাড়লেও যানজট নিরসনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান ও কার্যকর উদ্যোগ না থাকার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
নগরীর জলেশ্বরীতলা রোড থানা রোড, ফতেহআলী বাজার রোড, শেরপুর রোড, গোহাইল রোড, নামাজগড় রোড, ষ্টেশন রোড, তিনমাথা, চারমাথা, মাটিডালি বিমান মোড়, সাবগ্রাম চারমাথা সহ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে দীর্ঘ সময় ধরে যানজট তৈরি হওয়ায় কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, রোগী ও পথচারীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অনেক সময় স্বাভাবিক যাতায়াতের সময়ের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি সময় লাগছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হাজার হাজার অটো রিক্সা, ইজিবাইক, সড়কের ওপর অব্যবস্থাপনা, যত্রতত্র গাড়ি থামানো, দিনের বেলা শহরে ট্রাক প্রবেশ, শত শত স্কুল বাস, অবৈধ পার্কিং, রাস্তায় ভ্রাম্যমান দোকান, ফুটপাত দখল এবং অপরিকল্পিতভাবে যানবাহন চলাচলের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। এসব বিষয়ে নিয়মিত তদারকি ও সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।
ভুক্তভোগীদের দাবি, যানজট নিরসনে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার, অবৈধ পার্কিং নিয়ন্ত্রণ, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা এবং ব্যস্ত সময়ে অতিরিক্ত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের সমন্বিত কার্যক্রমের ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন নগরবাসী।
তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যানজট নিরসনে বিভিন্ন রকম উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান ট্রাফিক পরিদর্শক সালেকুজ্জামান সালেক তিনি বলেন,জনবল সংকটের কারনে ট্রাফিক বিভাগ হিমশিম খাচ্ছে তবে জানজট নিরসনে ট্রাফিক বিভাগ কাজ করছে।
দীর্ঘদিন ধরে চলা এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন নগরবাসী। সিটি কর্পোরেশন প্রশাসক দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে ৩০ জন স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করেছেন ট্রাফিক পুলিশকে সহযোগিতা করার জন্য। শহরের বিভিন্ন পয়েন্ট এ তারা সহযোগি হিসেবে দ্বায়ীত্ব পালন করছেন। বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতোয়ার রহমান বলেন, বগুড়া সিটিকর্পোরেশন এলাকায় বিভিন্ন উপজেলা থেকে সিএনজি থ্রি হুইলার ও ইজিবাইক প্রবেশ করার কারনে শহরে যানবাহনের আধিক্য দেখা দিয়েছে, এত পরিমাণ যানবাহন কমানোর ব্যবস্থা করতে হবে, ট্রাফিক পুলিশে জনবল সংকটের বিষয় তো আছেই, বিভিন্ন পয়েন্ট ডিউটি দেয়া যাচ্ছে না, শহরে যানবাহনের চলাচল কমাতে হবে, রাস্তায় অবৈধ ভ্রাম্যমান দোকান সরাতে হবে। সিটি কর্পোরেশন, প্রশাসন,ট্রাফিক পুলিশের যৌথ অভিযানের মাধ্যমে পরিকল্পিত ভাবে সামগ্রীক ব্যাবস্থা গ্রহন করতে হবে যানজট নিরসনের জন্য।