জাতির সংবাদ ডটকম।।
‘জাতীয় তামাকমুক্ত দিবস’-২০২৬ উপলক্ষে ই-সিগারেট/ভ্যাপ, নিকোটিন পাউচ এবং হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট (HTP) নিষিদ্ধের আহবান জানিয়েছে বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট। দিবসটি উদ্যাপন উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট (বাটা) এবং তামাক নিয়ন্ত্রণে কার্যরত ৩৫টি সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ সম্মিলিতভাবে একটি অবস্থান কর্মসূচি এবং আলোচনা সভার আয়োজন করে। কর্মসূচি থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নিকোটিনের আসক্তি থেকে রক্ষায় ই-সিগারেট/ভ্যাপ, নিকোটিন পাউচ ও হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্টের উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি, মজুত, বিক্রয়, বিপণন, বিতরণ ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানানো হয়। এছাড়াও সভা থেকে তামাক নিয়ন্ত্রণে বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের (বিএনপি) বিগত দিনের কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ই-সিগারেট ও সকল প্রকার উদীয়মান নিকোটিন পণ্য নিষিদ্ধের আহবান জানানো হয়।
আজ ০৮ অক্টোবর ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) সকাল ৯টায় ধানমন্ডি সাত মসজিদ সড়কস্থ আবাহনী খেলার মাঠের সামনে আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচিতে গ্রাম বাংলা উন্নয়ন কমিটির নির্বাহী পরিচালক একেএম মাকসুদ এর সভাপতিত্বে আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচিতে বলা হয়, ই-সিগারেট/ভ্যাপ, নিকোটিন পাউচ এবং হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট (HTP)-এর দ্রুত বিস্তার জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন হুমকি হয়ে উঠেছে।
অবস্থান কর্মসূচি শেষে আর্থ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক আমিনুল ইসলাম বকুলের সভাপতিত্বে, সকাল ১১টায় ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের কৈবর্ত সভাকক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়। ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের প্রকল্প কর্মকর্তা মিঠুন বৈদ্যর সঞ্চালনায় সভায় প্রবন্ধ উপস্থাপনা করে টোব্যাকো কন্ট্রোল এন্ড রিসার্চ সেলের (টিসিআরসি) প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর ফারহানা জামান লিজা। প্রবন্ধ উপস্থাপনায় ই-সিগারেটের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে বিভিন্ন নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে অপপ্রচার ও তদবিরের চিত্র তুলে ধরা হয়। তিনি আরো বলেন, ২০২৬ সালে দেশব্যাপী ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট পরিচালিত একটি গবেষণা অনুযায়ী তরুণ ধূমপায়ীদের ৭.৪২ শতাংশ ই-সিগারেট সেবনকারী, যা খুবই উদ্বেগজনক।
সভাপতির বক্তব্যে আমিনুল ইসলাম বকুল, ৯ অক্টোবর জাতীয় তামাকমুক্ত দিবসকে সরকারিভাবে উদ্যাপন এবং স্থায়িত্বশীল তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি বেগবান হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি আরো বলেন, ২০১৭ সালে দেশে যেখানে ই-সিগারেট ব্যবহারকারী ছিল মাত্র ০.২ শতাংশ, তা এখন বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে।
‘সেতু’ এর তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প পরিচালক শাগুফতা সুলতানা বলেন, সরকার কর আরোপ করে ই- সিগারেটকে একপ্রকার বৈধতা দিয়েছে। তিনি তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনে ই- সিগারেটকে পুনরায় তামাকপণ্যের আওতায়ও এনে নিষিদ্ধের জোরালো দাবি জানান।
সভায় বিশিষ্ট আইনজীবি সৈয়দ মাহবুবুল আলম তাহিন বলেন তরুণদের সুরক্ষায় বাজার সম্প্রসারণের আগেই এসব পণ্যের উপর কার্যকর নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন। তিনি আরো তামাক নিয়ন্ত্রণে আজকের অর্জনের পেছনে রয়েছে তামাক বিরোধী জোটভুক্ত সংগঠনগুলোর নিরলস পরিশ্রমের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ভবিষ্যতেও এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার আহবান জানান।
ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিসের কারিগরি পরামর্শক আমিনুল ইসলাম সুজন নতুন আইন বা অধ্যাদেশ প্রণয়নের মাধ্যমে ই-সিগারেট নিষিদ্ধের আহবান জানান। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ব্যবহার করে তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমকে বেগবান করার দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিসের ম্যানেজার ফাহমিদা ইসলাম বলেন, বাটা দীর্ঘদিন ধরে বেসরকারিভাবে জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ দিবস পালন করে আসছে। এটা একটা বিশাল প্রাপ্তি। তিনি ই- সিগারেট নিষিদ্ধে কর্মসূচি চলমান রাখার আহবান জানান।
ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের স্বাস্থ্য অধিকার বিভাগের প্রধান সৈয়দা অনন্যা রহমান বলেন, দেশে ক্যান্সারসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের চিকিৎসায় হাসপাতালগুলোতে ক্রমবর্ধমান চাপ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে; এমনকি প্রায় ৭ হাজার ক্যান্সার রোগীর কেমোথেরাথির সিরিয়াল ২০২৮ সাল পর্যন্ত ঠেকেছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন প্রজন্মকে নিকোটিনের আসক্তি থেকে সুরক্ষিত রাখা অত্যন্ত জরুরি।
এছাড়াও বক্তারা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয় নিষিদ্ধে শিক্ষা অফিসারদেরকে ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার দেয়ার পাশাপাশি জেলা উপজেলার মাসিক সমন্বয় মিটিংয়ে উদীয়মান নিকোটিন পণ্যের ক্ষতিকর দিকগুলোও আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করার আহবান জানান। পরিশেষে বক্তারা প্রাথমিক শিক্ষা কারিকুলামে বিদ্যমান তামাকজাত দ্রব্যের পাশাপাশি ই- সিগারেট, ভ্যাপসহ সকল উদীয়মান নিকোটিন পণ্যের ক্ষতিকর দিকগুলো যুক্ত করার আহ্বান জানান।