জুয়েল সরদারঃ
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে ঝুটবোঝাই একটি কার্গো ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে ৩০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। এ ঘটনায় তিন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ৯০ লাখ টাকা।
এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত ১২ টনের একটি টাটা কার্গো ট্রাক, দুটি স্মার্টফোন ও একটি বাটন ফোন জব্দ করা হয়।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেলে রাজবাড়ী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন। এ সময় রাজবাড়ী জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মফিজুল ইসলামসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশের প্রেস ব্রিফিং সূত্রে জানা যায়, সোমবার ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি আভিযানিক দল জানতে পারে, ইয়াবার একটি বড় চালান নিয়ে একটি ট্রাক পাটুরিয়া ফেরিঘাট হয়ে যশোরের উদ্দেশে যাচ্ছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে ভোর আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে গোয়ালন্দঘাট থানাধীন রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া মহাসড়কের দৌলতদিয়া বাস টার্মিনালের সামনে বিশেষ চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহনে তল্লাশি শুরু করে ডিবি পুলিশ।
পরে ভোর আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকা মেট্রো-ট-১৮-১১১৮ নম্বরের একটি ঝুটবোঝাই টাটা কার্গো ট্রাক থামানো হয়। ট্রাকের চালক, হেলপার ও চালকের পেছনের বক্সে শুয়ে থাকা এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তাঁদের আচরণ ও কথাবার্তায় পুলিশের সন্দেহ হয়। এ সময় তাঁরা ট্রাক থেকে লাফিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে ডিবি পুলিশের সদস্যরা তিনজনকে আটক করেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন যশোরের বেনাপোল পোর্ট থানার গয়রা গ্রামের আমিন উদ্দিনের ছেলে মো. রমজান আলী (৩৪), দিঘীরপাড় গ্রামের মৃত কওসার আলীর ছেলে ট্রাকচালক মো. আরমান হোসেন ইউনুস (৩০) এবং কাগমারী গ্রামের মো. মালেক মোড়লের ছেলে ট্রাকের হেলপার মো. আরিফ হোসেন (৩২)। পুলিশের প্রেস ব্রিফিংয়ে রমজান আলীকে এই চক্রের মূল মাদক কারবারি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশির একপর্যায়ে ট্রাকের চালকের পেছনের বক্সে শুয়ে থাকা রমজান আলীর মাথার নিচ থেকে ১৫০টি নীল রঙের জিপার ব্যাগে রাখা ৩০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক ওজন তিন কেজি এবং বাজারমূল্য প্রায় ৯০ লাখ টাকা।
এ ছাড়া মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত ঢাকা মেট্রো-ট-১৮-১১১৮ নম্বরের ১২ টনের টাটা কার্গো ট্রাক, রেডমি-১২-৫জি ও টেকনো কেএম৫ মডেলের দুটি স্মার্টফোন এবং উইনস্টার ডব্লিউ৫০০এমআইডি মডেলের একটি বাটন ফোন জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, বিক্রির উদ্দেশ্যে ইয়াবার চালানটি ঢাকা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল। পরে ট্রাকচালক ও হেলপারের সহায়তায় চালানটি যশোরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) ধারার সারণির ৯(গ)/১০(গ) অনুযায়ী গোয়ালন্দঘাট থানায় মামলা রুজুর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।