জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের আহ্বান

মঙ্গলবার, এপ্রিল ৭, ২০২৬

জাতির সংবাদ ডটকম।। 

মানুষ, পশুপাখি ও পরিবেশ-পরস্পর নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত এবং নির্ভরশীল। মানুষের সুস্থতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রাণিকুল ও পরিবেশের স্বাস্থ্য রক্ষায় পদক্ষেপ গ্রহণ করাও জরুরি। সবার সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতে বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন অপরিহার্য। এ বছরের বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘স্বাস্থ্যসেবায় বিজ্ঞান, সুরক্ষিত সব প্রাণ’ (Together for Health, Stand with Science).
বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষ্যে আজ ৭ এপ্রিল ২০২৬, সকাল ১১ :০০টায় ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ (ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট)-এর উদ্যোগে আয়োজিত “স্বাস্থ্য উন্নয়নে বিজ্ঞানভিত্তিক সমাধানে একত্রিত হই”শীর্ষক একটি ভার্চুয়াল টকশোতে বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যসেবায় বিজ্ঞানের অভূতপূর্ব অগ্রগতি, সুযোগ ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে কার্যকর পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়।
সভায় সম্মানিত আলোচক উপস্থিত ছিলেন গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক ক্যানসার হাসপাতালের প্রকল্প সমন্বয়কারী অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার, কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট এস. এম. নাজের হোসাইন, ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট-এর পরিচালক গাউস পিয়ারী এবং চিলড্রেন ওয়াচ ফাউন্ডেশন-এর চেয়ারম্যান শাহ ইশরাত আজমেরী। সভাটি সঞ্চালনা করেন ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট-এর হেড অব প্রোগ্রাম সৈয়দা অনন্যা রহমান।
অনুষ্ঠানে আলোচকরা বলেন, স্বাস্থ্য উন্নয়নে বিজ্ঞানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই বৈজ্ঞানিক অগ্রগতিকে কার্যকরভাবে স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করা অপরিহার্য। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে নতুন নতুন রোগের বিস্তার ঘটছে এবং একই সঙ্গে সামাজিক মাধ্যমে ভুল চিকিৎসা ও অবৈজ্ঞানিক প্রচারণা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষ সঠিক তথ্যের অভাবে বিভ্রান্ত হয়ে ভুল চিকিৎসা গ্রহণ করছে এবং আর্থিক ও শারীরিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারের পাশাপাশি জনগণকেও বিজ্ঞানভিত্তিক সঠিক তথ্য সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।
বক্তারা আরো বলেন, সবার জন্য স্বাস্থ্য বলা হলেও এটি বাস্তবে নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। এখানে বড় চ্যালেঞ্জ গবেষণালব্দ বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্য ও প্রযুক্তির ঘাটতি, অর্থনৈতিক চাপ, ব্যবস্থাপনা ও দক্ষ মানব সম্পদের অভাব ইত্যাদি। তথ্যপ্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে বর্তমানে ঘরে বসেই আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়া সম্ভব হচ্ছে। তবুও এখনও সবার জন্য সমতাভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সমন্বয়ে একটি বিজ্ঞানভিত্তিক ও কার্যকর স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
বক্তারা বলেন, জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে রোগ প্রতিরোধকে গুরুত্ব দিতে হবে। স্বাস্থ্য নিশ্চিত করা মাত্র স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষে এককভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। স্বাস্থ্যের পাশাপাশি অন্যান্য মন্ত্রণালয়গুলোরও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রে হেলথ প্রমোশন ফাউন্ডেশনের মতো প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা যেতে পারে। তারা পরিবেশবান্ধব নগর ও অবকাঠামো গড়ে তোলা, নগর পরিকল্পনায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি, মাঠ, পার্ক ও জলাধার সংরক্ষণ, হাঁটার উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি, নিরাপদ খাদ্য, সুপেয় পানি, দূষণমুক্ত পরিবেশ, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং প্রাণী স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়গুলোর প্রতিও গুরুত্বারোপ করেন।