নিজেস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর মিরপুর ১১ নাম্বারে অবস্থিত ৩নং ওবদা বিল্ডিং এলাকায় লুটপাট,দখল, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে ৪০টি ভুক্তভোগী পরিবারের উদ্যোগে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা পল্লবী থানা ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের বহিষ্কৃত আহ্বায়ক ইব্রাহীম খলিল,বহিষ্কৃত সদস্য সচিব রিয়াজ এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির শ্রমবিষয়ক সম্পাদক মো. ফাইয়াজ (মুন্না)-এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তোলেন।তাদের দাবি,অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। এ সময় সাধারণ মানুষের বাড়িঘর দখল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা,মূল্যবান মালামাল লুটপাট এবং নিরীহ মানুষকে হয়রানির ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, বিভিন্ন মামলাকে কেন্দ্র করে তাদের টার্গেট করা হয়েছে।অনেক পরিবারের বাড়িঘর ভাঙচুর,মালামাল লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করা হয়।এসব কর্মকাণ্ডে বিএনপির নাম ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বক্তারা।
সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘হযরত শাহ আলী এন্টারপ্রাইজ’ থেকে নতুন মোবাইল ফোন,নগদ অর্থ ও অন্যান্য মালামাল লুটের অভিযোগ তোলা হয়। এছাড়া ‘বেনারশী শাড়ি সিল্ক হাউজ’ থেকে শাড়ি,ওড়না,নগদ অর্থসহ বিভিন্ন পণ্য নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়।একইসঙ্গে একটি অটোরিকশা গ্যারেজ থেকে ছয়টি অটোরিকশা নিয়ে যাওয়া এবং একটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও তুলে ধরেন তারা।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, একটি দোকান থেকে প্রতি মাসে ১৫ হাজার টাকা ভাড়া আদায় করা হলেও সেই অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার না করে আত্মসাৎ করা হয়েছে।পাশাপাশি দখলকৃত বাড়িঘরে মাদক সেবন ও মাদক ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগও উত্থাপন করা হয়।
ভুক্তভোগীরা বলেন,এসব ঘটনার প্রতিবাদ করতে গেলে তাদের ভয়ভীতি,হুমকি ও প্রাণনাশের আশঙ্কার মুখে পড়তে হয়েছে। নারী,শিশু ও বয়স্করাও হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন তারা।মিরপুর -১১ নাম্বারে অবস্থিত ৩ নং ওবদা বিল্ডিং এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায় সদ্য বহিস্কৃত ৫ নং ওয়ার্ড যুবদলের সদস্য সচিব রিয়াজ ও তার বড় ভাই মুন্না দীর্ঘদিন যাবৎ মাদক ব্যবসা করে আসছে। ৫ ই অগাস্ট রাজনীতির পট পরিবর্তনের পর থেকে এই রিয়াজ ও তার বড় ভাই মুন্না ও তাঁদের বাহিনীরা বেপরোয়া হয়ে পরে,এলাকায় নিরীহ লোক জনের উপর হামলা-মামলা দিয়ে আবার কিছু সময় এইগুলোর ভয়ভীতি প্রদশন করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।নিজেদের পূর্বের শত্রুতার জেরে অনেক নিরীহ পরিবারকে মারধর করে বাসা বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট করে এলাকা ছাড়া করেছে এই রিয়াজ-ইব্রাহিম বাহিনী।কয়েক জন ভুক্তভোগীর সাথে কথা বলে এই সকল বিষয়ে জানাযায় তারা আরও বলেন যে এই বিষয়ে ১৬ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রাথী আমিনুল হক বর্তমানে ক্রিয়া প্রতিমন্ত্রিকে একাধিকবার এই বিষয়ে জানানো হলেও আশানুরূপ কোন ফলাফল পাননি।এই রিয়াজের বাহিনীর হয়ে আরও কাজ করে মিরপুর ১২ নাম্বারের নওশাদ,রুপা,শামসের,ভলু, জুয়েল,টেগরা লিটন, আশিক,ইব্রাহিম।গত মে মাসে পল্লবীর বাউনিয়াবাদ এলাকায় জায়গায় দখলকে কেন্দ্র করে এক বৃদ্ধাকে পিটিয়ে হত্যা করে এই রিয়াজ ও ইব্রাহিম খল্লিল এই বিষয়ে থানায় মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানালে বিষয়টি গণমাধ্যমে আসার পরে গত ২৬ মে ২০২৬ মামলা করতে সক্ষম হয়।বহিঃস্কৃত এই নেতাদের সকল অপকর্মগুলো সক্রিয় ভাবে চলছে,জনমনে প্রশ্ন এই বহিস্কার কি শুধু মাত্র দলের সম্মান রক্ষারতে ও লোক দেখানো।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পল্লবী থানায় একাধিক অভিযোগ ও গুরুতর অপরাধের মামলা থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এ সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর কাছে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানান ভুক্তভোগীরা।পাশাপাশি বিএনপি,জামায়াতে ইসলামী,এনসিপিসহ সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের কাছে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।
এছাড়া ঢাকা মহানগর পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সহযোগিতা কামনা করে ভুক্তভোগীরা বলেন,সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হলে এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসবে।
গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতিও আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন,তাদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সংঘটিত লুটপাট ও ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র সরেজমিনে অনুসন্ধান করে জনসম্মুখে তুলে ধরা প্রয়োজন।উল্লেখ্য, সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।