চা শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের ৭৮ বছরের সংগ্রাম ও ঐতিহ্য

বুধবার, জুন ৩, ২০২৬

 

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:

বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী শ্রমিক সংগঠন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বুধবার নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ‘লেবার হাউজে’ আলোচনা সভা, কেক কাটা এবং সংগঠনের ইতিহাস ও অর্জন নিয়ে স্মৃতিচারণমূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি পংকজ কন্দ। এতে বক্তব্য দেন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নিপেন পাল, সাংগঠনিক সম্পাদক বিজয় হাজরা, অর্থ সম্পাদক পরেশ কালিন্দীসহ কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা বলেন, ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন দীর্ঘ ৭৮ বছর ধরে দেশের চা শিল্পে কর্মরত লাখো শ্রমিকের অধিকার আদায়, ন্যায্য মজুরি নিশ্চিতকরণ, জীবনমান উন্নয়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। নানা প্রতিকূলতা ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে সংগঠনটি চা শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ করেছে এবং তাদের ন্যায্য দাবিদাওয়া আদায়ের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে।

তারা আরও বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে চা শিল্প গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও চা বাগানের শ্রমিকরা এখনও নানা সমস্যার মুখোমুখি। শ্রমিকদের জন্য মানসম্মত আবাসন, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা, শিশুদের শিক্ষা, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ এবং জীবনযাত্রার ব্যয় অনুযায়ী ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। এসব বিষয়ে সরকার, বাগান মালিকপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সকল মহলকে আরও আন্তরিক ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, শ্রমিকদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম এখনও শেষ হয়নি। অতীতের মতো ভবিষ্যতেও বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণ, সামাজিক উন্নয়ন এবং চা শিল্পের টেকসই বিকাশে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। শ্রমিকদের ঐক্য, সচেতনতা ও সংগঠনের শক্তিই তাদের অধিকার আদায়ের প্রধান হাতিয়ার বলে তারা উল্লেখ করেন।

আলোচনা সভা শেষে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটা হয়। এ সময় সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী, চা বাগানের শ্রমিক প্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর তাৎপর্য তুলে ধরে শ্রমিকদের কল্যাণ ও অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে আরও বেগবান করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।