বিকুল চক্রবর্তী, মৌলভীবাজার:
বিশ্ব সাপ দিবসের দিনই (১৬ জুলাই) মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে একটি অজগর সাপ উদ্ধারের ঘটনা পেয়েছে ভিন্ন মাত্রা। কারণ, মাত্র দুই দিন আগে না-ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন দেশের সুপরিচিত বন্যপ্রাণীপ্রেমী ও বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শীতেশ রঞ্জন দেব। আর তাঁর মৃত্যুর শোকের মধ্যেই, ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী হবিষ্যান্ন পালনরত অবস্থায় বাবার অসমাপ্ত দায়িত্বকে নিজের দায়িত্ব মনে করে উদ্ধার অভিযানে ছুটে যান তাঁর বড় ছেলে স্বপন দেব সজল।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৫ নম্বর পুল উত্তর ভাড়াউড়া এলাকার যোবায়ের আহমেদের বাড়িতে একটি অজগর সাপ দেখা যায়। পরিবারের সদস্যরা জানান, কয়েকদিন ধরেই তাদের হাঁস ও মুরগির বাচ্চা রহস্যজনকভাবে হারিয়ে যাচ্ছিল। সকালে হঠাৎ তারা দেখতে পান, একটি বড় অজগর বাড়ির দেয়াল বেয়ে পাশের গাছের দিকে যাচ্ছে। তখনই তাদের ধারণা হয়, হারিয়ে যাওয়া হাঁস-মুরগির বাচ্চাগুলো সম্ভবত সাপটিরই শিকার হয়েছে।
খবর পেয়ে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল, পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ও রিদন গৌড় দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অজগরটিকে নিরাপদে উদ্ধার করেন। পরে সাপটিকে শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা যোবায়ের আহমেদ বলেন, “অনেকেই সাপটিকে মেরে ফেলার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু আমরা শীতেশ দেবের বাসায় ফোন করি। কিছুক্ষণ পরই তাঁর বড় ছেলে স্বপন দেব সজল এসে সাপটিকে নিরাপদে উদ্ধার করেন। এতে আমরা খুবই স্বস্তি পেয়েছি।”
উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া স্বপন দেব সজল বলেন, “বাবা সবসময় বিপন্ন বন্যপ্রাণী রক্ষার কাজকে জীবনের ব্রত হিসেবে নিয়েছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর আমরা ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী হবিষ্যান্ন পালন করছি। শাস্ত্রীয় বিধান অনুযায়ী এ সময় ঘরের বাইরে বের হওয়ার কথা নয়। কিন্তু একটি অজগর বিপদে আছে—এই খবর শুনে মনে হয়েছে, এটি বাবারই কাজ। বাবার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই হবিষ্যান্নের পোশাকেই বেরিয়ে এসেছি। আমি ও আমার ভাই যতদিন বেঁচে থাকব, বাবার শুরু করা এই বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের কাজ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করব।”
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জিয়াউর রহমান জানান, বিশ্ব সাপ দিবসে এই উদ্ধার অভিযান যেন শুধু একটি অজগর সাপকে রক্ষা করার ঘটনাই নয়, বরং প্রয়াত শীতেশ রঞ্জন দেবের বন্যপ্রাণীর প্রতি আজীবনের ভালোবাসা ও মানবিক আদর্শের উত্তরাধিকার নতুন প্রজন্মের হাতে অটুট থাকার এক আবেগঘন বার্তাও হয়ে উঠেছে।