‘আমি দোষ করেছি, ডলারও করেছে, তারে ধরেন’

বুধবার, জুন ৩, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছর বয়সী শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলাকেটে হত্যা মামলায় আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি শেষ হয়েছে। শুনানিতে আসামি সোহেল রানা নিজেকে প্রথমে নির্দোষ বলে দাবি করলেও পরে দোষ স্বীকার করে বলেন, আমি দোষ করেছি, ডলারও করেছে, আমাকে মাফ করে দিয়েন। আমার স্ত্রী কোনো দোষ করে নাই।

বুধবার (৩ জুন) ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটির আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে বিচারক মামলার অভিযোগ ও সাক্ষীদের জবানবন্দি দুই আসামির সামনে পড়ে শোনান এবং তাদের বক্তব্য জানতে চান।

এরআগে সকালে সোহেল ও স্বপ্নাকে কারাগার থেকে আদালত প্রাঙ্গণে এনে আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। বেলা পৌনে ১১টার দিকে সোহেলকে, আর বেলা ১১টার দিকে স্বপ্নাকে হাজতখানা থেকে আদালতে তোলা হয়। ১১টা ১০ মিনিটে বিচারক এজলাসে আসার পর বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।

সোহেলের কোনো বক্তব্য আছে কি না, তা জানতে চাওয়া হলে সোহেল কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বলেন, ‘আমি নির্দোষ, স্যার। আমার সঙ্গে যে ছিল ডলার, তারে আপনারা ধরেন। আমি দোষ করি নাই তা না, আমিও দোষ করেছি, ডলারও দোষ করেছে।…আমারে মাফ করে দেন, আমার একটা ছোট ছাওয়াল আছে।’

স্ত্রী স্বপ্নার বিষয়ে এ সময় আসামি সোহেল বলেন, ‘আমার বউটা একদম নির্দোষ স্যার।’ এসময় বিচারক তাকে থামিয়ে দেন এবং স্বপ্নার কাছে জানতে চান তার কোনো বক্তব্য আছে কিনা।

স্বপ্না আদালতকে বলেন, ‘আমি কিছু করি নাই, আমি নির্দোষ।’ স্বপ্না বিচারকের কাছে নিজের মুক্তি কামনা করেন।

তবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের মতে, আসামিদের এই ধরনের বক্তব্য বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত ও বিলম্বিত করার অপকৌশল।

এদিকে রাষ্ট্র নিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী মুসা কলিমুল্ল্যাহ জানান, নিজেদের নির্দোষ প্রমাণে নতুন করে কোনো সাফাই সাক্ষী হাজির করবেন না তারা।

আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানি শেষে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু আগামীকাল বৃহস্পতিবার যুক্তিতর্কের জন্য দিন নির্ধারণের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।

এর আগে মঙ্গলবার (২ জুন) রামিসার বাবা, মা, বোন, স্বজন, প্রতিবেশী প্রত্যক্ষদর্শী ও তদন্ত কর্মকর্তাসহ ১৬ জন সাক্ষ্য দেন। এরপর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ করার নিবেদন জানান রাষ্ট্রপক্ষ। আবেদন মঞ্জুর করে আদালত আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন ও ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আজ দিন ধার্য করেন।

এর আগে গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীর একটি বাসা থেকে আট বছরের শিশু রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ফ্ল্যাটটিতে বসবাসকারী সোহেল রানা ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতের কাছে ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করেন সোহেল।